প্রচ্ছদ

চাঁদের হাট: স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাই

  |  ০৭:৫৮, মে ১২, ২০২০
www.adarshabarta.com

সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কেটেছে প্রিয় সংগঠন ‘চাঁদের হাট’ ও ‘ছড়া পরিষদ’ নিয়ে। সিলেটে চাঁদের হাটের সঙ্গে জড়িয়ে যাই ১৯৮২ সালে। আর ছড়া পরিষদ, সিলেট গঠন করি ১৯৮৪ সালে। আমার আরেক প্রাণের সংগঠন সিলেট সাহিত্য পরিষদ গঠন করি ১৯৯৮ সালে ও স্বদেশ ফোরাম, নিউইয়র্ক গঠন করি ২০০৮ সালে। এসব সংগঠন ভালোবাসার বাঁধনে বেঁধে রেখেছে নিরন্তর আমার অন্তর-মন-প্রাণ। আমার সময় কাটে আনন্দের ভেলায়, সুন্দরের-কল্যাণের পথে। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে থাকতে চায় মন সব সময়। সে এক অন্য রকম সুখ-শান্তি।

লেখালেখি ও সংগঠন নিয়ে মেতে উঠি ১৯৭৪ সাল থেকেই। ধোপাদীঘির পাড় ‘শাপলা কুঁড়ির আসর’-এর মধ্য দিয়ে শুরু করি সাংগঠনিক কাজ। এক সময় ঢাকা থেকে বের হয় ‘কিশোর বাংলা’। সেখানেই লেখালখির শুরু। কিশোর সংবাদদাতা হিসেবে ছাপা হয় আমার পাঠানো সিলেটের সংবাদ। পরিচয় হয় প্রখ্যাত ছড়াকার ও সাংবাদিক রফিকুল হক দাদুভাইয়ের সঙ্গে। তিনি কিশোর বাংলার সম্পাদক। দাদু ভাই জাতীয় শিশু-কিশোর ও যুব কল্যাণ সংগঠন ‘চাঁদের হাট’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। ঢাকায় গেলে দাদু ভাইয়ের সঙ্গে কিশোর বাংলায় অনেক আলাপ ও অন্তরঙ্গ আড্ডা হয়। তিনিই চাঁদের হাট সিলেট শাখা পুনর্গঠনের জন্য আহ্বান জানান। তিনি চাঁদের হাটকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাকে ভীষণভাবে উদুদ্ধ করেন।

কিশোর বাংলায় দেখা হয় শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম, অভিনেতা আফজাল হোসেন, ছড়াকার লুত্ফর রহমান রিটন, ছড়াকার আমীরুল ইসলামসহ অনেকের সঙ্গে। সিলেট চলে আসার পরও দাদুভাই ফোনে আলাপে ও চিঠির মাধ্যমে চাঁদের হাট সিলেট শাখা নিয়ে খোঁজ নিতেন। আমি ১৯৮২ সালের এক বিকেলে সভার মাধ্যমে চাঁদের হাট সিলেট শাখার আহ্বায়ক হিসেবে সাংগঠনিক কাজ শুরু করি। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু হয়। আয়োজন হয় সাহিত্য সভা, কবিতা উৎসব, রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী, জাতীয় দিবস উদ্‌যাপন, ঈদ, বিজয়, একুশ, স্বাধীনতা, বৈশাখে অনুষ্ঠানের আয়োজন, সাহিত্য-সংস্কৃতি উৎসবসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠান। এভাবে চাঁদের হাট সিলেট শাখা সুনামের সঙ্গে এগিয়ে যায়। শিশু একাডেমি সিলেট শাখা আয়োজিত শিশু মেলায় অংশ নিয়ে পায় পুরস্কার।

দাদুভাইসহ কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজন হয় জমজমাট অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের খাবারের আয়োজন হয় আমার বাসায়। আমার মায়ের সে কি ব্যস্ততা; তবু মুখের হাসিটা মুছে যায়নি কখনো। ছড়া পরিষদ, সিলেট আয়োজিত আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাদুভাই হঠাৎ উপস্থিত হয়ে যে সারপ্রাইজ দিয়েছিলেন, তা আজও মনে পড়ে। হাস্যোজ্জ্বল দাদু ভাই আমাদের কাছে চিরসবুজ। আমাদের চলার পথের প্রেরণা। চাঁদের হাটের প্রাণপুরুষ আমাদের প্রিয় দাদুভাই।

আমাদের বুকের ভালোবাসার নাম চাঁদের হাট। চাঁদের হাট একটি মিষ্টি পরিবার। চাঁদের হাটের সুন্দর দিনগুলো আজও মনের দরজায় কড়া নাড়ে। আমি স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাই। আমার মন দুলে ওঠে ভালোবাসায়। সেই দিনের প্রিয়জনদের ছবি ভেসে ওঠে চোখে। মনে পড়ে। প্রিয় মুখ ড. সফিউদ্দিন আহমদ, জাহিরুল হক চৌধুরী, আকসার বকস, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আজিজুল মালীক চৌধুরী, তুষার কর, শামসুল করিম কয়েস, মহিউদ্দিন শীরু, জামান মাহবুব, আজিজ আহমদ সেলিম, মনির উদ্দিন চৌধুরী, নৃপেন্দ্র লাল দাস, আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, নূরুজ্জামান মণি, শাহাদাত করিম, মিলু কাশেম, তমিজ উদ্দীন লোদী, আল আযাদ, গোবিন্দ পাল, কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার, আব্দুল বাসিত মোহাম্মদ, রোকেয়া খাতুন, এনামুল হক, শিউল মনজুর, ইকরামুল কবির, নারায়ণ গুপ্ত, কামকামুর বাজ্জাক রুনু, ফতেহ ওসমানী, সালাম মশরুর, হেলাল উদ্দিন, আব্দুস সবুর, সৈয়দ সুজাত আলী, মোহাম্মদ হোসাইন, হীরা শামীম, সজল পাল, মোখলেসুর রহমান, আব্দুল মালেক, শারিক শামসুল কিবরিয়া, জয়নাল আফসার, তাজুল ইসলাম, মোসলেহ উদ্দিন, তারেশ কান্তি তালুকদার, মোহাম্মদ নওয়াব আলী, আব্দুল হামিদ মাহবুব, রতন কান্তি চাকলাদার, সৌমিত্র দেব, এখলাসুর রাহমান, জগলু চৌধুরী, আফসার উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, আলাউদ্দিন সরকার, গোলাম রব্বানী চৌধুরী, সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, অবিনাশ আচার্য, সরওয়ার আহমদ চৌধুরী, আহমেদ শামীম, জয়নাল আবেদীন, জফির সেতু, মোহাম্মদ রুহেল, মালেক ইমতিয়াজ, মুজিবুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিকুর রহমান, আব্দুস সাদেক, কমল আনসারী, চন্দন চৌধুরী, সাঈদুর রহমান, ম আনফর আলী, এইচ এম আরশ আলী, ফজলুর রহমান, পারভেজ রশীদ, শাহ আলম, বাইস কাদির, আমান উদ্দিন, তাইছির মাহমুদ, সালেহ আহমদ খান, শফিকুল ইসলাম, শামসুল আলম, মোস্তফা সেলিম, বদরুল আলম খান, দেওয়ান মাহমুদ রাজা, হারান কান্তি সেন, তালহা জুনেদ, বিমল কর, অজিত রায়, শাহাদত বখত, মাহবুব লীলেন, রেজুওয়ান মারুফ, অপূর্ব শর্মা, রনক আহমদ চৌধুরী, সুমন বণিক, আব্দুল মুকিত, নাজনীন আক্তার, নিলুপা ইসলাম, খোকন সরওয়ার, হেলাল নির্ঝর, এফজাল আহমদ চৌধুরী, আহমদ বকুল, সেলিম আউয়াল, নজরুল ইসলাম আসলমী, বনানী দাশ, দিলয়োর হোসেন, জুনায়েদ খোরাসানী, পার্থ সারথী দাস, নিখিল রায়, জিল্লুল করিম চৌধুরী, শুভংকর দাশ, চৌধুরী আমীরুল হোসেন, অমলেন্দু দাশ, আফজল হোসেন, শরীফ ইকবাল, শাহজাহান কমর, পুলিন রায়, রানা কুমার সিংহ, সুফি সুফিয়ান, মালেকুল হক, আবিদ ফায়সল, পরিতোষ বাবুল, ইমতিয়াজ সুলতান, হিমাংশু রঞ্জন দাশ, দুলাল চৌধুরী, লুত্ফুর রহমান, সালাম ফারুক, আহমদ সেলিম, সালমান ফরিদ, হাবিব ফয়েজী, ধ্রুব গৌতম, আশরাফ হাসান, কামরুল আলম, জিল্লুর রহমান, সিরাজ উদ্দিন শিরুল, মেহেদী কাবুল, নিজামুল হক হামেদী, মঞ্জুর মোহাম্মদ, বাদশা গাজী, রিপন আহমদ ফরিদী, আব্দুল মুমিন মামুন, খালেদ উদ-দীন, খালেদ মিয়া, সাঈদ আহমদ কয়েস, নাজমুল আনসারী, আফরোজা জেসমীন,
,ফয়সাল আইয়ূব,মামুন সুলতান,আনোয়ার শাহজাহান,বাইস কাদির, মোস্তাকুর রহমান চৌধুরী, মুস্তিকুর রহিম চৌধুরী, চয়ন চন্দ্র বৈদ্য, সোহেল আহমদ, তারেশ কান্তি তালুকদার, আবুল হোসেন, জুনেদুর রহমান, রওশন আরা, মুনশি ইকবাল, আব্দুল হাই আজাদ, আব্দুল মালেক, গোলাম রাজ্জাক চৌধুরী, হোসেন আহমদ, শাহ আহমদ রফিক, শাহ আহমদ সাদিক, শাহিন উদ্দিন, নূরুল গণি, রেজা আহমদ, ইকবাল আহমদ চৌধুরী, পলাশ আফজল, নিরঞ্জন চন্দ, সুমন বৈদ্য, সজল ঘোষ, সুমন বিপ্লব, মোহাম্মদ জায়েদ আলী, বিভাংশু গুণ, শেখ ফজর রহমান, নিরঞ্জন মণি বিশ্বাস, পৃথ্বিশ চক্রবর্তী, কয়েস আহমদ মাহদী, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, এম আলী হোসাইন, সঞ্জয় কর, শফিকুল ইসলাম, শ্যামল কান্তি সোমসহ অগণিত প্রিয়জনেরা।

প্রবাসে থাকলেও মনে আমার প্রিয় চাঁদের হাটের স্বর্ণালি দিনগুলো এখনো যত্নে জমিয়ে রেখেছি। আমার জীবনের দুরন্ত সময় কেটেছে ভালোবাসার এই সংগঠন নিয়ে প্রিয় শহর সিলেটে। ঝড়, তুফান, বন্যা, বৃষ্টি, রোদ মাথায় নিয়ে চলেছে সংগঠনের কাজ। সেই অতীতের রঙিন দিনগুলো ভোলার নয়। মনে সেই দিনগুলোর স্মৃতি রঙিন তুলিতে আঁকা থাকবে চিরদিন। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা চাঁদের হাটের বন্ধুদের জানাই ভালোবাসা। শুভ হোক প্রিয় সংগঠনের ভবিষ্যতের পথচলা।

লেখক: আমেরিকা প্রবাসী; কবি, সাহিত্যিক ও সংগঠক