প্রচ্ছদ

বিপদ দূর হোক, এসেছে রহমত ও নাজাতের মাস

  |  09:48, April 25, 2020
www.adarshabarta.com

Manual4 Ad Code

আদর্শ বার্তা ডেস্ক :

রহমত বরকত মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র রমজান। বহু বছর ধরে বাংলাদেশে এই মহিমান্বিত মাসের অভিজ্ঞতা এমন দেখা গেছে যে, আগে-পরের আবহাওয়ার বাইরে ভিন্ন এক বাতাবরণ দিয়ে গেছে এই রমজান। প্রচন্ড তাপদাহ হয়ে গেছে শীতল ছায়াময় মায়াময় ভুবন। তিরিশ দিনই হালকা রোদ ছায়া, কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, কখনো ঠান্ডা বাতাস। রমজানের পর আবার যেই সেই। অন্তত গত সাত বছর ধরে গ্রীষ্মের রমজান বাংলাদেশে এমনই ছিলো।

এবারের রমজান এমন এক সময় এসেছে, যখন অস্বাভাবিক এক প্রাণঘাতী মহামারীতে গোটা পৃথিবী কাতর। নোভেল করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে মানবজাতি বিশ্বময় তটস্থ। দুনিয়াজুড়ে মানুষ ঘরে ঢুকে গেছে। তিন চারমাস ধরে বিশ্বের প্রায় সবদেশ অদ্ভুত এক অচলায়তন। অর্থনীতি লাইফ সাপোর্টে। মানুষ মরছে, আক্রান্ত হচ্ছে, মৃত্যুভয়ে ঘরে বসে থেকে হাঁপিয়ে উঠছে। এসময় মক্কা ও মদীনার দুই প্রধান মসজিদের কর্মসূচি সীমিত। ওমরাহ বন্ধ। তাওয়াফ নিয়ন্ত্রিত। নামাজ জামাত জুমা তারাবি নামমাত্র। এটি মহামারী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় শরিয়তের বিধানের আলোকেই গৃহীত সিদ্ধান্ত। মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়ার সতর্কতা এমনই। কোথাও মসজিদ বন্ধ। কোথাও অতি সীমিত। এমন সঙ্কটময় মুহ‚র্তে বাংলাদেশে এলো আল্লাহর রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের অবারিত সওগাত নিয়ে সৌভাগ্যের রমজান। এদেশের সাড়ে চার লাখ মসজিদে তারাবি হবে সীমিত আকারে। আর ৯৯ ভাগ নামাজি সারা দুনিয়ার মুসলমানের মতোই এ বছরের তারাবি পড়বেন নিজ নিজ পরিসরে।

Manual8 Ad Code

সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি অনুসরণ করে। এতে নামাজ ও কোরআনের বরকত ছড়িয়ে যাবে ঘরে ঘরে। চার পাঁচ লাখের জায়গায় এবার এমনকি বিশ পঁচিশ লাখ কোরআন খতম তারাবি অনুষ্ঠিত হওয়াও বিচিত্র নয় এই বাংলাদেশে। বিপদের দিনে আল্লাহর দিকে রুজু হয় মানুষ। ঘরে তারাবি হবে, তাই এবার সম্ভব হলে পারিবারিক পরিসরে শিশু ও মহিলারাও শরিক হবেন ইন শা আল্লাহ। হাফেজ সাহেবরা নিজের কাছে সামান্য কিছু মুসল্লি এলাউ করে ছোট্ট ছোট্ট জামাত করতে পারেন।

Manual6 Ad Code

সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি খারাপ হলেও মুসলমানদের জন্য এ অবস্থায় রমজান আসা মানে মুক্তির চাবিকাঠি হাতে আসা। জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। বান্দার কাজ তাকদীরের ওপর বিশ্বাস করে সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ঈমান আস্থা ভরসা রেখে নিজ নিজ কর্তব্য করে যাওয়া। বিপদ একদিক দিয়ে রহমতও হতে পারে। প্রতিটি মন্দেরই ভালো দিক থাকে। এ সময়ে সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে বিপন্ন মানুষের খেদমত করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। দান-সদকা ও জাকাত দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে রাজি-খুশি করা। কোরআন, নামাজ, মাসাআলা-মাসায়েলসহ ইসলামের সঠিক জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষা লাভ করা। কিয়ামুল-লাইল তাহাজ্জুদ তিলাওয়াত ও দোয়ার বিশেষ চর্চা করা। হায়াত থাকলে আবার রমজান পাওয়া যাবে, নয়তো এটাই আমাদের শেষ রমজান। একে সর্বোচ্চ আন্তরিক হয়ে রোজা, নামাজ, তওবা-ইস্তেগফার ও ইবাদতের মধ্যদিয়ে পালন করা। দোয়া দরূদ তওবা জিকির জারি রাখা।

মানবজাতিকে আল্লাহ ক্ষমা করুণা ও অনুগ্রহে নতুন জীবনের সন্ধান দিন। মুসলিম উম্মাহর ওপর বিশেষ রহমত করুন। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে গায়েবি রহমত বরকত ও প্রোটেকশন নিশ্চিত করে বিশেষভাবে রক্ষা করুন। বিশ্বমন্দায় তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক বৃদ্ধি করে দিতে পারেন। ধ্বংসের মধ্যেও যাকে চান হেফাজত করেন। বাংলাদেশের জন্য আগামী ২০/২৫ দিনের মাথায় করোনার ভয়াবহ অবস্থা প্রকাশিত হওয়ার কঠিন আশঙ্কার সময়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের বরকতে হেফাজতে রেখে আশঙ্কা ও বিশ্ব অভিজ্ঞতা ভুল সাব্যস্ত করুন।

Manual7 Ad Code

মানুষের তৎপরতা বিবর্জিত এ ভীতিকর সময়টিকেই নিজের খাস রহমত ও কুদরতের দ্বারা আল্লাহ আমাদের জন্য লাভজনক ও উপকারী বানিয়ে দিন। আবহাওয়া ভালো রাখুন। জলে-স্থলে অন্তরীক্ষে তার অবারিত দান ও রিজিকে ভরপুর করে দিন। বাংলাদেশের সাগর, নদী, ক্ষেত, খামার, খনি, জমিন, আকাশ, বাতাস ও মানুষের দেহ মন হৃদয়ে বিশেষ দয়া দান, রহমত ও বরকত এভাবেই দিয়ে দেন, যাতে আমরা সবাই সমৃদ্ধ ও সন্তুষ্ট হয়ে যেতে পারি। তার শুকরিয়া আদায় করতে পারি। বিপদের দিনের এই রমজানে এটাই আমাদের প্রার্থনা। মোবারক হোক মাহে রমজান।

(ইনকিলাব রিপোর্ট)

Manual5 Ad Code

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code