প্রচ্ছদ

সাদা কালো ঈদ

  |  ১৪:১১, মে ২২, ২০২০
www.adarshabarta.com

Manual7 Ad Code

অকেয়া হক জেবু

ঈদের হাওয়ায় ভরে যাক প্রাণ,
গাইবো মোরা ঈদের গান।
হিয়া কোনে খুশির ছোঁয়া,
ঈদে হোক সব কিছু পাওয়া।”

Manual3 Ad Code

দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ঈদ। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সাথে সাথে টেলিভিশন, রেডিওতে ভেজে ওঠে সবার প্রিয় গানটি-
“রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”

চারদিকে শুরু হয়ে যায় হৈ হুল্লোড়। ঘরে শুরু হয়ে যায় মেহেদী পরার ধুম। ঈদ মানে আনন্দ, নতুন জামা, নতুন জুতা আর মজার মজার খাবারের বাহার। সারা দিন মুক্ত পাখির মত ডানা মেলে ঘুরাঘুরি, বন্ধু /বান্ধবের সাথে আড্ডা, গল্প। প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানো, ঈদের সালামি, আর বাহারি রকম সাজ।

Manual3 Ad Code

ঈদ মুসলিম উম্মাহের জন্য আল্লাহ্‌ তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ এক নিয়ামত। হাদিসে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) যখন মদিনা আগমন করলেন মদিনা বাসীর বিশেষ দুটি দিন ছিল। এই দুই দিনে এরা খেলাধূলা আমোদ ফূর্তিতে মত্ত থাকতো। নবীজি জানতে চাইলেন, এই দুই দিনের তাৎপর্য কি? মদিনাবাসী উত্তরে জানালেন, আমরা জাহেলী যুগে এই দুই দিন খেলাধূলা করতাম। নবীজি বললেন, আল্লাহ্‌ এই দুদিনের পরিবর্তে শ্রেষ্ট দুইটি দিন আমাদের দিয়েছে, একটি হলো ঈদ-উল-ফিতর, আরেকটি হলো ঈদ-উল-আযহা।
(সুনানে আবু দাউদ ১১৩৪)

বর্তমানে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর কারণে পুরো বিশ্ব থমকে গেছে। থমকে গেছে অর্থনীতি, থমকে গেছে জীবন যাত্রা, থমকে গেছে যোগাযোগ ব্যাবস্থা।বিশ্বের সর্বস্তরের মানুষ আজ গৃহবন্দী। এই থমকে যাওয়া পৃথিবীতে এক অন্যরকম ঈদ পালন করতে যাচ্ছে বিশ্বের সমগ্র মুসলিম জাতি, কোনরকম ঈদের কেনা-কাটা ছাড়া, নতুন জামা কাপড় ছাড়া। হবে না ঈদের নামাজে লাখো মানুষের ভিড়। কখনো কেউ দেখেনি বা ভাবেনি বাইরে না গিয়ে, ঈদের নামাজ না পড়ে, কোলাকুলি না করে ঈদ উৎযাপন করতে হবে। এটা মানতে পারছেন না বহু মানুষ।

Manual6 Ad Code

এই বিষয়ে কি বলছেন ইসলামি স্কলাররা?
তাঁদের মতে আল্লাহ সর্বশক্তিমান। সবই তাঁর সৃষ্টি, সবই তাঁর ইচ্ছা। সবাই ঘরে বসে নিজে নিজের মত করে প্রার্থনা করলে কোন দোষ হবে না।এমন পরিস্থিতিতে বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না। জামায়াতে অংশগ্রহণ করা ঠিক হবে না। সবার আগে নিজকে সুরক্ষা করতে হবে, তবেই সবাইকে সুরক্ষা করা যাবে। সে কারনেই এবারের ঈদ ঘরে বসে পালন করা জরুরী।

তাছাড়া, ঈদের নতুন চাঁদ সবার জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে না গরীব দুঃখীরা স্বাভাবিক দিনের মতোই দু’মোটো ভাত খেয়ে না খেয়ে নতুন জামা কাপড় ছাড়াই ঈদ উদযাপন করে থাকে। মূলত ঈদ মানুষের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ ও ভেদাভেদ ভুলে সহমমির্তা ভ্রাতৃত্ব প্রেম ভালবাসা জাগ্রত করাই ঈদ উৎসবের মূল লক্ষ। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাই সবার সাধ্য অনুযায়ী করোনাভাইরাস বা কোবিড-১৯ মহামারিতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে অসহায় দরিদ্রদের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দটা ভাগাভাগি করে নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব এবং কর্তব্য। যারা কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত তাদেকে ঘৃণা নয় বরং তাদের প্রতি সহানূভতিশীল হয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

“সামাজিক দূরত্ব নয়, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা-ই হোক আমাদের এই ঈদের শিক্ষা।”

আর ঈদ থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি আমরা আমাদের জীবন রাঙ্গাতে পারি তবেই আমাদের ঘরবন্দি সাদাকালো ঈদ উৎসব সার্থক হবে।

অকেয়া হক জেবু
কবি, আইনজীবী।

Manual4 Ad Code

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code