মোঃ মিনহাজ উদ্দীন-এর কবিতা “আমার কানাইঘাট”
আমার কানাইঘাট
✍️ মোঃ মিনহাজ উদ্দীন
সবুজ শ্যামল সুরমা পারেই
আমার কানাইঘাট
সিলেট জেলার একটি থানা
আর বিরাট এক হাট।
উত্তরে তার বিশাল পাহাড়
খাসিয়াদের টিলা
ভারত সীমান্ত যেথায়-
মেঘালয় এক জিলা।
পশ্চিমে তার জৈন্তিয়া রাজ-
পরিবারের ভুমি
কানাই মাঝির ঘাট দেখতে
আসবে কি ভাই তুমি?
এই এখানে শুয়ে আছেন
হযরতে মুশাহীদ (রঃ)
বায়মপুরের হারানো ধন
যুগের মুজাদ্দিদ।
দনা ফাঁড়ির অদূরে এক
রাতাছড়া পুঞ্জি
এ যেন এক মুগ্ধ করা
পান সুপারির কুঞ্জি।
জয়পুর ও জুলাই গ্রামের
পাশ ঘেসে এক লেক
আন্দু তার আঞ্চলিক নাম
আজই এসে দেখ্।
আন্দুর মুখ বাজারের পাশে
ভাটিবারাপৈত
শোকায় না লেক কোন কালে
ফাল্গুন কিবা চৈত।
মুলাগুল সাউদগ্রামের পাশে
এক যে লোভাছড়া
জেমস লিউ নানকার বাগান
আহ সেকি মন কাড়া।
নক্তিপাড়া গ্রামের পাশে
“কেরকেরি”এক টাউন
প্রকৃতির এই বরপুত্র সে
পরে সবুজ গাউন।
সীমান্ত গ্রাম ভালুকমারা
এবং লোহাজুরি
সোনারখেড় ও মিকিরপাড়া
প্রকৃতির ফুলঝুরি।
রাজাগঞ্জের জলহাওরটি
টানবে তোমায় বেশ
যতই বলি রূপ খানা তার
হবে নাগো শেষ।
গাছবাড়ি আর ঝিংগাবাড়ি
দ্বীনি শিক্ষার গেহ
দারুল উলূম আর আকুনি
বলতে পারেন কেহ।
কানাইঘাট সরকারি কলেজ
জ্ঞানের একটি সিন্ধু
এই অভাগাও ভাগ নিয়েছে
হোকনা তা এক বিন্দু।
সড়কের বাজারে আছে
কলেজ ও মাদরাসা
আরো আছে নাম না বলা
বিদ্যালয়ে টাসা।
আমার প্রিয় জামিউল উলুম
মাদরাসা গাছবাড়ি,
আইডিয়াল কলেজও পাশেই
জ্ঞানের কাড়াকাড়ি।
আব্দুর রব কাসেমীর দ্বীনি
গৃহ মনসুরিয়া
চরিপাড়ীর তেমন কীর্তি
নাম যে রহিমিয়া।
উমরগঞ্জের দরসগাহটি
বেশ দিনের পুরোনো
কায়স্থ গ্রাম কাইত হয়নিকো
সচল যে তার তনু।
সীমাবাজার এর পশ্চিমে
মীরারচটি গ্রামে
হাশেমী এক বুজুর্গ ছিলেন
সৈয়দ লিখতেন নামে।
আমরপুরের ঠিক দক্ষিণে
ফাগু আর বাঁশবাড়ি
তার পুবে যে সুরমা তটে
রাজপুর চৈলতাবাড়ি।
ঢাকনাইল রাজে আরেক
আছে ভদ্রচটি
মনে হয় তার মাসতুত ভাই
নামযে বদাই চটি।
তার পাশে এক পল্লি আছে
তিনসতি তার নাম
আল হেরা মাদরাসা আছে
সাকিন ঘড়াইগ্রাম।
আগতালুক আর মাঝতালুকের
পাশেই দলইকান্দি
তার উত্তরে চতুল বাজার
তার পরে বড়বন্দি।
বৃহত্তর ঢাকনাইলের মাঝে
বাখাইরপার এক গ্রাম
বাখাই বিলের দক্ষিণে তা
নয়নাভিরাম!
কাঠালতলীর পাহাড়ঘেরা
মেঠো পথের পরে
সোনাতন এক পুঞ্জি আছে
মনটা উদাস করে।
এক নামে দুই পল্লি আছে
নারাইনপুর নামে
এক নামে একহালি পাড়া
ডাকে নয়াগ্রামে।
ছত্রপুর আর সরদারমাটি
গাছবাড়ির পাশ ঘেসে
ছত্রনগর, সরদারমাটি
মাঝরগ্রামের কাছে।
বানিগ্রামের ঠিক পরেই
ব্রাহ্মণগ্রাম এক পাড়া
দর্পনগর ব্রাহ্মণগ্রামের
নাম আছে লেশ ছাড়া।
আগচটি-মাঝচটি পাড়া
দর্পনগর পূর্বে
আমার তাতে শ্বশুরালয়
প্রাণখোলে তায় ঘুরবে।
বীরদল নামে দুই এলাকা
উজান এবং ভাটি
আন্দু ঘেষা আরেকটি গ্রাম
সেযে লন্তিরমাটি।
দিঘীরপার ও জয়ফৌদের
ঈদগাহ যে নামকরা
বড়মেসাব (রঃ) আব্দুন নুরের
শাগরেদর যে ভরা।
দোয়ারীমাটি মানিকপুর আর
ধনপুরের কাছে
হিম্মতের মাটি নামে এক
অপরূপ গ্রাম আছে।
ধর্মপুরের ঠিক অদূরেই
ধনপুর আছে আরেক।
ইচ্ছে জাগে যেতে সেথায়
দাওয়াত পেলে বারেক।
মন্তাজ আলী চৌধূরী সাহেব
ছিলেন এক জমিদার
তাঁর জীবনের সফল স্বপ্ন
মমতাজগঞ্জ বাজার।
কাড়াবাল্লা বড়চাতলের
উত্তরে ইণ্ডিয়া
কানাইঘাটের রূপের ঝলক
দেখেন সেথা গিয়া।
সাত বাঁকের ডাণ্ডিখ্যাত
চরিপাড়া গ্রামে
চরিপাড়ি পীরে কামিল
শায়ীত যে ঘুমে।
ছোটফৌদও দুইটি আছে
দুইটি ইউনিয়নে
লক্ষীপ্রসাদ একে এবং
বীরদলের এক কোনে।
রামপুর রাজপুর নামে
দুইটি জনপদ
তার ওপারে জকিগঞ্জ
উপজেলার হদ।
ছতিপুর কান্দলা আছে
মূলাগুল পরগনা
এরালিগুল মোকামেরগুল
দলইমাটি কোনা।
বড়খেড়, বড়দেশও আছে
ছোটদেশের পাশে
সরদারী পাড়াও আছে
নওয়াগাউয়ের কাছে।
লোহাবাড়ি ফালজুরেও
মইসমারার বিলে
ফাবিজুরীর পাবদা বোয়াল
কীযে মজা খেলে।
দুর্লভপুরের পশ্চিমেতে
শিবনগর গাঁয়
আল্লামা ঈদরিস (রঃ)আহমদ
ঘুমান নিরালায়।
ধর্মপুরের কাছাকাছি
জৈন্তিপুরের পুব
নন্দিরাই এক বিশাল পাড়া
জনগনও খুব।
কুওড়গড়ি গ্রামে অনেক
হিন্দু ধর্মের বাস
তাদের নদীর চর জোড়েযে
ফসল বারো মাস।
মাটিজুরি কালিজুরি
কালিনগর আছে
কানাইঘাট এক সুখের পল্লি
জলে ভাতে মাছে।
ডালাইচর ও রায়গড় আছে
পৌরসভার ভেতর
সুরইঘাট এক বাজার আছে
ফসল আছে ক্ষেতর।
বিষ্ণপুরে মুক্তিযুদ্ধার
গণ কবর আছে
শ্রদ্ধা জানাই ঐ সেনাদের
ঋণি তাঁদের কাছে।
মানিকগঞ্জ, ভবানিগঞ্জ
মুকিগঞ্জ বাজার
পুরো কানাইঘাট ছিল
অংশ জৈন্তা রাজার।
দর্জিমাটির দর্জি সাবরে
খোঁজতে গিয়ে পরে
ভাড়ারি মাটির ভাড়ার থেকে
ভাত খেলাম পেটভরে।
খণ্ডে খণ্ডে ভাগ হয়েছে
উত্তরে বাউরভাগ।
অখণ্ড ঠিক রয়ে গেছে
ইটখলা বাউরভাগ।
কাপ্তানপুরে ক্যাপ্টেন নেই
আছে হাওর বিল
মিয়াগুলের সবাই মিয়া
বড়ই দারাজ দিল।
বড়চতুলের কাছেই যে
আছে হখারাই
চতুল বাজার ঠিক ওপারে
জৈন্তা ছাতারখাই।
আব্দুস সালাম মিনিস্টার
কানাইঘাটেই বাড়ি
গোয়াইনঘাটের লোকে বলে
আমরা বরাকপাড়ি।
লোকে বলে মুখে মুখে
পান পানি ও নারী
এই তিনেতে সবার সেরা
বৃহৎ জৈন্তাপুরী।
শাহাপুর এক গ্রাম আছে তার
জনসংখ্যা বেশি
কটালপুরে লোকজন কম
হয়তো একশো আশি।
খুলুরমাটির ঠিক ওপারে
উজানফৌদ গ্রামে
শেরে মুলাগুলি ছিলেন
আব্দুল জলিল নামে।
জংলা মাঠের পাশ ঘেষে এক
গ্রামযে গোয়ালজুর
আকুনির দক্ষিণ পশ্চিমে
গ্রামটা রসূলপুর।
ফাটাহিজল গ্রামটিতে নেই
একটি হিজল ফাটা
কান্দিগ্রাম ও ধনপুরের
শক্ত বুকের পাটা।
সোনাপুর এলাকা নয়কো
সোনা দিয়ে ঢাকা
গোসাইনপুরতো সুরমা ঘেষা
সবুজ, আঁকাবাঁকা।
তালবাড়ীতে সাবেক একজন
এমপি সাবের বাড়ি
মুল্লা মুন্সীর কানাইঘাটে
খুব টুপি আর দাঁড়ি।
মইনা এবং মইনার পাহাড়,
পাশাপাশি পাড়া
পাঁচপীরের মাজারও দেখবে
না থাকলে গো তাড়া।
মির্জারগড়, ফতেহগঞ্জের
পাশের নয়ামাটি
আমরপুরের নয়ামাটির
চাইতেও পরিপাটি।
লালারচক, দেওয়ানেরচক,
গাজীপুর পারকুল
খালপার এক বিশাল পাড়া
সবুজে খায় দুল।
খওয়াজপুরে খওয়াজ বাদশার
বাদশাহি নেই আজ
লক্ষীপুর আর কাঁঠালবাড়ির
সে কী রূপের সাজ!
দাওয়াদারীর কিছু দূরেই
শাহ শমসেরের স্মৃতি
গাজী বুরহান উদ্দীন শেখের
সাথে যে সম্প্রীতি।
মহিষপুরীর যোগ্য সাথী
শায়খে লক্ষীপুরী
পাত্রমাটির শেখ ইলিয়াস
দ্বীনের স্বপ্নচারী।
মুহিব মিয়া, জমশেদ মিয়া
ছিলেন সালিশ নেতা
বতাই মাষ্টর,কালা মাষ্টর
মজিদ মিয়ার কথা।
শাহ ইব্রাহিম তশ্না ছিলেন
মরমী এক কবি
সরওয়ার ফারুকী যে তার
ফটো কপির ছবি।
আব্দুরব ক্বাসিমী হযরত
আর যে ফাযিল সাব
হরমুজুল্লাহ দ্বীনের দায়ী
হারানো আফতাব।
পাহাড় আছে হাওর আছে
আছে বন বনানী
কাঁঠাল আছে কমলা আছে
আছে ঝর্ণার পানি।
বাংলাবাজার নামে একটা
গ্রাম্য বাজার আছে
ঢাকাতে নয় সাতপারি গাঁ
জুলাই গ্রামের পাশে।
আন্দু লেকে চাইলে যেতে
বাংলাবাজার হয়ে
সি এন জি তে দশটি টাকা!
মরবি না ভাই ভয়ে।
পূর্ব কুওরেরমাঠি তে
বটের বাজার ছিলো
বটের গাছ ও পুরো বাজার
সুরমা গিলে খেলো।
স্নেহ আছে, গেহ আছে
আছে ভালোবাসা
সুরমা তটের মানুষগুলো
হৃদ্যতাতে টাসা।
আরো আছে অনেক কিছুই
কী লিখবো বা আর
লিখবো তাই পাঠকরা দেন
মতামত যারযার।
দেখতে এসো কানাইঘাটে
দিলাম নিমন্ত্রণ
তোমার দেশেও যাবো সখি
পেলে আমন্ত্রণ।
লেখক: মোঃ মিনহাজ উদ্দীন, কবি সাহিত্যিক ; শিক্ষক

