প্রচ্ছদ

বাংলার অপার সৌন্দর্যের প্রতিক জারুল ফুল

  |  ২০:২৭, মে ০৮, ২০২১
www.adarshabarta.com

Manual4 Ad Code

:: বোরহান মেহেদী ::

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর এই দেশে ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন সজ্জায় সাজে প্রকৃতি। বর্তমানে গ্রীষ্মের এই ঋতুতে ফল-ফুলের ব্যাপক সমারোহ। সেই সঙ্গে গ্রীষ্মের এই ঋতুতে প্রকৃতির নজরকাড়া আরেক সৌন্দর্য জারুল ফুল।

পাপড়ির নমনীয় কোমলতায়, দৃষ্টিনন্দন বর্ণচ্ছটা নিয়ে প্রকৃতিকে আরো সুন্দর করে সাজিয়ে তোলে জারুল ফুল। প্রকৃতির সাম্যের গান কবিতায়ও রয়েছে জারুলের স্তুতি “এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে সবচেয়ে সুন্দর করুণ, সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুক‚পী ঘাসে অবিরল, সেখানে গাছের নাম : কাঁঠাল, অশ্বথ, বট, জারুল, হিজল, সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ-জীবনানন্দ দাশ”।

Manual6 Ad Code

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর এই দেশে ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন সজ্জায় সাজে প্রকৃতি। বর্তমানে গ্রীষ্মের এই ঋতুতে ফল-ফুলের ব্যাপক সমারোহ। সেই সঙ্গে গ্রীষ্মের এই ঋতুতে প্রকৃতির নজরকাড়া আরেক সৌন্দর্য জারুল ফুল। প্রকৃতির এমনই এক সৌন্দর্য ধারণ করে আক্কেলপুর পৌর শহরের মুজিবর রহমান সরকারি কলেজের সামনে রয়েছে জারুল গাছ।

জারুল গাছ এখন বেগুনি রংয়ের ফুলে প্রকৃতিকে এক অপার সৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলে। এই ফুল সবারই নজর কাড়ছে প্রতিনিয়ত। জারুল ফুলের সৌন্দর্যের কথা কবি জীবনান্দ দাশ, কবি আহসান হাবীব, কবি বোরহান মেহেদীসহ অনেক কবির কবিতায় ফুটে ওঠেছে। ফুলটির ইংরেজি নাম: Giant Crape-myrtle, বৈজ্ঞানিক নাম: Lagerstroemia Speciosa । গাছটির আদি নিবাস শ্রীলঙ্কায়। ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ জারুল।

Manual8 Ad Code

তবে বাংলাদেশ সহ চীন, মালয়েশিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে এই বৃক্ষের দেখা মিলে। গ্রীষ্মের শুরুতে থেকে এই ফুল শরৎ পর্যন্ত দেখা যায়। ফুল শেষে গাছে বীজ হয় ও বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে। এই গাছ সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিটার উঁচু হয়। গাছটির নানা ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে। যেমন-(ডায়াবেটিস, জ্বর, অনিদ্রা, কাশি, অজীর্ণতায়) অনেক উপকারী। তবে নানা কারণে প্রকৃতি থেকে বিলীন হওয়ার পথে এই গাছ।

Manual6 Ad Code

প্রকৃতির এমনই এক সৌন্দর্য ধারণ করে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পূর্ব এলেকার দলাদিয়া, ক্ষুদ্রাবন, দিগদা, লেবুপাড়া ও পোটান টেক বিভিন্ন স্হানে। যার বেগুনি ফুলের সৌন্দর্য প্রতিটি পথচারীর নজর কাড়ে। তবে গাছটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার এমনটিও জানিয়েছেন অনেকেই।

নরসিংদী পৌর শহরের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী ও প্রকৃতি প্রেমিক মোঃ মেজবাহ্ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘প্রতি বছর গ্রীস্মকাল জারুল ফুলের অনন্য শোভা যেকোন মানুষকে বিমোহিত করবেই। বর্তমানে এই জরুল বৃক্ষটি ব্যাপকহারে কর্তনের ফলে আগের মতো আর চোখে পড়েনা। অথচ এই জরুল ফুল আবহমান বাংলার এক অপরূপের সাজের মনিহার ছিলো।

ছোটবেলায় জারুল ফুল ছিলো শিশু কিশোরদের খেলা সাথি। সারাদিন যেন জরুলের সাথে ছিলো মিতালী। শিক্ষক মেজবাহ্ আরো বলেন, এই জারুল বৃক্ষটি সংরক্ষনে আমাদের শহর কতৃপক্ষের এগিয়ে আসা উচিত। এই বৃক্ষটি শহরের সৌন্দয্য বর্দ্ধনে রাস্তার দু পাশে রোপন আজ সময়ের দাবি, এতে এই বাংলার সাজন গাছটি রক্ষা পাবে।

Manual8 Ad Code

এক মাত্র জারুল গাছটি বেগুনি রংয়ের ফুলে ছেয়ে যায়। এতে মনোমুগ্ধকর এক আবেশ তৈরী হয়। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য দেখতে খুবই ভাল লাগে’।

এই বৃক্ষটি বর্ষা মৌসুমের আগে গ্রীস্মের এক নান্দনিক প্রকৃতির উপহার। গ্রামবাংলার নান্দনিকতা অরূপ শোভা । এটি একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন গাছও। নয়নাভিরাম এই গাছের বিস্তৃতি আমাদের দেশকে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তোলে।

লেখক: সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code