প্রচ্ছদ

শফি আহমেদ-এর কবিতা “নববর্ষে”

  |  16:53, January 03, 2026
www.adarshabarta.com

Manual7 Ad Code

নববর্ষে

Manual6 Ad Code

শফি আহমেদ

এস হে নতুন,
নববর্ষ নয়া বেলা,
অরুণ প্রাতে মন মেতে
প্রথম আলোয়
নীলাম্বরের নীলা মেলা।

শান্তি আর ক্লান্তি—
তাই আজ শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি,
চেনা জানা সুজন সুমনা
প্রীতি–ইরাদায়—
হাতে তুলে দেওয়া
নতুন ভোরের ফুলমালা।

ও সে নতুন—নববর্ষে
নয়া বেলা,
উঠুক ফুঁটে অরুণ দিগন্তে বিপুলা
পহেলা সকাল বেলা।

———————————————–

. আর. রহমানের একটি ছোট ঘটনা

যা আমাদের “আসল” নিয়ে নতুন করে ভাবায়_।

এই কবিতাটি ভাবতে গিয়ে আমার কাছে সময়টাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। নববর্ষ এখানে কোনো উৎসবের উচ্ছ্বাস নয়, কোনো ক্যালেন্ডারের পাতাও উল্টে যাওয়া নয়। এটি যেন আধুনিক জীবনের অবিরাম ছুটে চলার মাঝখানে এক মুহূর্ত থামার ইচ্ছে। “শান্তি আর ক্লান্তি—তাই আজ শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি” পংক্তিটি আমার নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গেই মিলে যায়। ক্লান্তি এখানে দুর্বলতা নয়; বরং অতিরিক্ত গতির জীবনে বেঁচে থাকার স্বাভাবিক চিহ্ন। আর শান্তি—এই সময়ের সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য অথচ সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সম্পদ। আজকের পৃথিবীতে শান্তিই সবচেয়ে বড় সম্পদ—কারণ শান্তি না থাকলে কোনো অর্জনই মানুষকে হালকা করে না।

Manual3 Ad Code

আমরা এখন এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে AI আমাদের কাজ করার ধরনই বদলে দিচ্ছে। ধরুন, একসময় একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করতে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও খসড়া লিখতে কয়েক দিন লেগে যেত। আজ AI সেই একই কাজের কাঠামো কয়েক মিনিটে দাঁড় করিয়ে দেয়। চিকিৎসাক্ষেত্রে, যেখানে রোগ নির্ণয়ে একাধিক পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, সেখানে AI কয়েক সেকেন্ডে সম্ভাব্য ঝুঁকির মানচিত্র তুলে ধরছে। শিল্প ও লেখালেখিতেও একই চিত্র—ভাবনা আর বাস্তবায়নের মধ্যকার সময় দ্রুত সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। মানুষ যেন এক ধরনের মেটা স্তরে প্রবেশ করছে, যেখানে “ভাবা” আর “করা”-র মাঝখানে আর আগের মতো ফাঁক নেই।

Manual1 Ad Code

এই অগ্রগতি নিঃসন্দেহে এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় সোনালি যুগের ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু এখানেই একটি গভীর বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়। কাজ দ্রুত শেষ হলেও সময় যেন সস্তা হচ্ছে না; বরং সময়ই সবচেয়ে দামী হয়ে উঠছে। AI আমাদের ঘণ্টা বাঁচায়, কিন্তু সেই ঘণ্টা আবার নতুন কাজ, নতুন প্রত্যাশা, নতুন চাপ দিয়ে ভরে যায়। দ্রুততা এখন আর সুবিধা নয়, বরং এক ধরনের নীরব বাধ্যবাধকতা। ফলে অবকাশ, নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়, নিরুপদ্রব উপস্থিতি—এসবই ক্রমে বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে।

এই জায়গাতেই কবিতার “চেনা জানা সুজন সুমনা / প্রীতি–ইরাদায়—হাতে তুলে দেওয়া / নতুন ভোরের ফুলমালা” অংশটি আমার কাছে গভীর অর্থ বহন করে। এখানে কোনো অ্যালগরিদম নেই, কোনো অটোমেশন নেই। ‘হাতে তুলে দেওয়া’ মানে সময় দেওয়া, পাশে থাকা, মন দিয়ে উপস্থিত থাকা। আজ আমরা স্ক্রিনে গোটা পৃথিবী দেখি, কিন্তু কাছের মানুষদের সঙ্গে দূরত্ব কমে না—এই পংক্তিগুলো সেই অভাবের দিকেই নীরবে ইঙ্গিত করে।

এই লেখায় আমি প্রযুক্তির বিরোধিতা করছি না, AI-এর অগ্রগতিকে অস্বীকারও করছি না। বরং এই স্বয়ংক্রিয় যুগের মাঝেই একটি সহজ সত্য পরিষ্কার হয়ে ওঠে—যতই আমরা মেটা স্তরে উঠি না কেন, মানুষের চাওয়া বদলায়নি। মানুষ এখনো শান্তি চায়, সময় চায়, একটু ধীরে বাঁচতে চায়। নববর্ষ তাই আমার কাছে নতুন হওয়ার ঘোষণা নয়; বরং এই দ্রুত পৃথিবীতে শান্ত থাকার, মানুষ হয়ে থাকার এক নীরব প্রার্থনা।

Manual5 Ad Code

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code