প্রচ্ছদ

দিগন্ত ভ্রমণের স্মৃতি,পর্ব-০৪

  |  12:59, September 06, 2026
www.adarshabarta.com

Manual7 Ad Code

জলের শহর ভেনিস আর চার্মফুল সিটি পাদোভা
দেলওয়ার হোসেন সেলিম ✍️

বিশ্ব বিখ্যাত পর্যটনের আকর্ষণ ইতালির ভেনিস শহর। অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের কোলে ১৮টি দ্বীপের উপর গড়ে ওঠা এই শহরটিকে বলা হয় “পানির উপর ভাসমান জাদুঘর (City of Canals)”। এখানে রাস্তা নেই, আছে ১৭৭টি খাল। গাড়ি নেই, আছে নৌকা। আর দুই পাড়কে জুড়ে রেখেছে ৪৩৮টি সেতু। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এই শহর প্রতি বছর ২ কোটি পর্যটককে টানে।

২০১৫ সালে ফ্রান্স থেকে ২ মাসের জন্য ইতালি ভ্রমণে গিয়েছিলাম। প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেতে, ব্যাক্তিগত কাজ এবং ভ্রমণ পিপাসু মনের টান সব মিলিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে ইতালি ভ্রমণের দিনগুলো কেটেছে। সেবারই সুযোগ হয়েছিল এই স্বপ্নের শহর ভেনিস দেখার।

পাদোভা থেকে ভেনিস, জলের দিকে যাত্রা :
ইতালি প্রবাসী শ্রদ্ধেয় ভাই মিস্টার শাহাব উদ্দিন থাকতেন পাদোভা শহরে। তিনিই বললেন, ভেনিস না দেখলে ইতালি দেখা হবে না। সকাল ৯ টায় পাদোভা স্টেশন থেকে ত্রেনিতালিয়া ট্রেনে উঠলাম। আধাঘন্টার পথ। জানালা দিয়ে দেখছি ইতালির গ্রাম, আঙুরের ক্ষেত আর দূরে লেগুনের পানি।
ঠিক ৯:৩০ এ ট্রেন থামল ভেনেৎসিয়া সান্তা লুচিয়া স্টেশনে। স্টেশন থেকে বেরিয়েই সামনে গ্র্যান্ড ক্যানেল। বিশাল খালের উপর দিয়ে ছুটছে ওয়াটার বাস, পুলিশ বোট, অ্যাম্বুলেন্স বোট। প্রথমেই বুঝলাম — এখানে জীবন মানেই পানি।

পানিতে ভাসমান ভেনিসের কয়েকটি পর্যটন স্পট, যেগুলো ঘুরে দেখেছি

Manual3 Ad Code

গ্র্যান্ড ক্যানেল ও ভাপোরেত্তো :
স্টেশন থেকে ১ নম্বর ভাপোরেত্তো ওয়াটার বাসে উঠলাম। এটাই ভেনিসের মূল রাস্তা। ৪ কিমি লম্বা গ্র্যান্ড ক্যানেল ধরে যেতে দুই পাশে দেখলাম ২০০টির বেশি রাজপ্রাসাদ। কা’দ’ওরো,প্যালাজো গ্রাসি, পেগি গুগেনহাইম মিউজিয়াম — সব পানির গায়ে। ৪৫ মিনিটের এই রাইডেই অর্ধেক ভেনিস দেখা হয়ে যায়। ভাড়া ৭.৫ ইউরো।

সান মার্কো স্কয়ার ও বেসিলিকা :
ভেনিসের হৃদয় পিয়াৎজা সান মার্কো। ১২ শতকের এই স্কয়ারের চারপাশে ক্যাফে ফ্লোরিয়ান, কোয়াদ্রি। হাজারো পায়রা আর পর্যটক। স্কয়ারের মাথায় উঁচু ক্যাম্পানিল টাওয়ার। ৯৯ মিটার উপরে লিফটে উঠে পুরো ভেনিস শহর + লেগুন দেখলাম।
পাশেই সান মার্কো বেসিলিকা। বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের নিদর্শন। বাইরে ৫টি গম্বুজ, ভেতরে সোনালি মোজাইক।

ডোজের প্রাসাদ ও ব্রিজ অফ সাইস :
বেসিলিকার গা ঘেঁষে দোজের প্রাসাদ। ভেনিস প্রজাতন্ত্রের শাসকদের বাড়ি। গথিক স্থাপত্যের এই প্রাসাদের ভেতরে বিশাল হল অফ গ্রেট কাউন্সিল। প্রাসাদ থেকে বের হওয়ার সময় পার হতে হয় পন্তে দেই সোসপিরি – দীর্ঘশ্বাসের সেতু। কথিত আছে, বন্দীরা শেষবার এই ব্রিজ দিয়ে যাওয়ার সময় শহরের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলত।

রিয়ালতো ব্রিজ ও রিয়ালতো মার্কেট :
গ্র্যান্ড ক্যানেলের সবচেয়ে পুরনো ও ব্যস্ত সেতু রিয়ালতো ব্রিজ। ১৫৯১ সালে তৈরি। সেতুর দুই পাশে সোনা-রুপার দোকান। নিচেই রিয়ালতো ফিস মার্কেট। তাজা চিংড়ি, কাঁকড়া, স্কুইড।

গন্ডোলা রাইড ও ছোট খাল :
দুপুরের দিকে শাহাব উদ্দিন ভাই বললেন, “গন্ডোলা না চড়লে ভেনিস আসা বৃথা”। সান মোইসে ঘাট থেকে ৮০ ইউরো দিয়ে ৩০ মিনিটের রাইড নিলাম। কালো গন্ডোলা, মাঝির মাথায় স্ট্র হ্যাট। সরু খাল রিও দি সান মোইসে। মাঝি ইতালিয়ান গান ধরল “O Sole Mio”।

আক্কাদেমিয়া ব্রিজ ও আর্ট গ্যালারি :
শিল্পপ্রেমীদের জন্য গ্যালারি দেল্ল’আক্কাদেমিয়া। টিশিয়ান, ভেরোনিজের পেইন্টিং আছে। সামনের আক্কাদেমিয়া ব্রিজ কাঠের তৈরি। এখান থেকে গ্রান্ড ক্যানেল এর বাঁকের ভিউটা সেরা।

মুরানো দ্বীপ – কাঁচের শহর :
Vaporetto করে ৪০ মিনিটে গেলাম মুরানো দ্বীপে। ১২৯১ সাল থেকে এখানে কাঁচের কাজ হয়। কারখানায় দেখলাম কিভাবে আগুনে কাঁচ গলিয়ে ফুলদানি, ঝাড়বাতি, গহনা বানানো হয়। Murano Glass কিনতে সারা পৃথিবীর মানুষ এখানে আসে।

বুরানো দ্বীপ – রঙিন বাড়ির গ্রাম :
Murano এর পাশেই Burano বুরানো। পুরো দ্বীপের বাড়িগুলো রংধনুর মতো রঙিন। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ। এই দ্বীপ বিখ্যাত লেইসের কাজ এর জন্য।

সান্তা মারিয়া দেল্লা সালুতে গির্জা :
গ্রান্ড ক্যানেল এর মুখে বিশাল গম্বুজওয়ালা এই গির্জা। ১৬৩০ সালের প্লেগ থেকে শহরকে বাঁচানোর জন্য তৈরি। ভেতরের মার্বেলের কাজ আর টিশিয়ানের পেইন্টিং দেখার মতো।

আর্সেনাল- ভেনিসের নৌঘাঁটি :
একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ কারখানা ছিল এটা। এখান থেকেই ভেনিসের নৌবাহিনী পরিচালিত হতো। এখন বিয়েনালে আর্ট এক্সিবিশন হয়।

শেক্সপিয়ারের ভেনিস :
ভেনিস শুধু পানির শহর নয়, এটা সাহিত্যেরও শহর। বিশ্বকবি উইলিয়াম শেক্সপিয়ার তাঁর দুটি বিখ্যাত নাটকের পটভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন এই ভেনিসকেই।
১. দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিস – ভেনিসের ব্যবসায়ী :
নাটকের অর্ধেক ঘটনা ঘটেছে রিয়ালতো মার্কেট আর ভেনিসের আদালতে। মহাজন শাইলক এর “এক পাউন্ড মাংস” এর গল্প। ২০০৪ সালে আল পাচিনো অভিনীত সিনেমাটির পুরো শুটিং হয়েছে ভেনিসেই।
২. ওথেলো : ভেনিসের সেনাপতি ওথেলো এর ট্র্যাজেডি।

বিশ্ববিখ্যাত পর্যটকদের ভেনিস ভ্রমণ :
ভেনিস শুধু আমার মতো সাধারণ পর্যটককে টানে না। যুগে যুগে পৃথিবীর বিখ্যাত মানুষেরা এখানে এসেছেন।

মার্কো পোলো : ভেনিসেরই সন্তান। ১৩ শতকে তিনি এখান থেকে চীন ভ্রমণে গিয়েছিলেন।
লর্ড বায়রন : ইংরেজ কবি। ১৮১৬-১৮১৯ সালে ভেনিসে ছিলেন। তিনি লিখেছেন, “ভেনিস সমুদ্রের উপর ভাসমান রূপকথা”।

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে : মার্কিন সাহিত্যিক। তিনি রোজ হ্যারিস বার এ বসে লিখতেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : ১৯২৬ সালে কবিগুরু ভেনিসে এসেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “ভেনিসের খালগুলো যেন স্বপ্নের নদী”।

সত্যজিৎ রায় : ১৯৫০ সালে “দ্য অপু ট্রিলজি” এর জন্য লোকেশন দেখতে ভেনিসে এসেছিলেন।

দুপুরের লাঞ্চ, ভেনিসের স্বাদ :
দুপুর ১টায় খিদে পেয়ে গেলাম Rialto Market এর কাছের দা নিকো Trattoria ত্রাত্তোরিয়া – রেস্টুরেন্টে।
শাহাব উদ্দিন ভাই অর্ডার দিলেন, রিসোত্তো আল নেরো দি সেপিয়া – স্কুইডের কালি দিয়ে কালো রিসোটো। সার্দে ইন সাওর – পেঁয়াজ, কিসমিস দিয়ে টক-মিষ্টি সার্ডিন মাছ। চিকেত্তি – ছোট ব্রেডের টপিং। খাবার শেষে তিরামিসু। দুই জনের বিল ৪৫ ইউরো।

বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সাথে সাক্ষাৎ :
খাওয়ার পর রিয়ালতো ব্রিজের কাছে বসে ছিলাম। হঠাৎ কানে এলো “ভাই, ভালা আছইন নি? ৩ জন বাংলাদেশী ভাই। বাড়ি সিলেটে।
রাসেল আহমেদ – ৮ বছর ধরে রেস্টুরেন্টে কাজ করেন।
কামাল হোসেন – মুরানোতে কাঁচের ফ্যাক্টরিতে।
আবুল কালাম আজাদ – ট্যুরিস্ট গাইড। তারা বললেন, ভেনিসে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশী থাকেন। দেশে টাকা পাঠান। সত্যিকারের রেমিট্যান্স যোদ্ধা।

সূর্যাস্তের ভেনিস ও রাত ৯টায় ফেরা :
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। গেলাম সান মার্কো স্কয়ারে। ভেনিসে সূর্যাস্তের দৃশ্য ছিল অসাধারণ। পশ্চিম আকাশ লাল-কমলা। সেই আলো এসে পড়ল গ্র্যান্ড ক্যানেলের পানিতে। রাত ৮টায় Venezia Santa Lucia স্টেশনে এলাম। রাত ৯টার ট্রেনে চার্মফুল সিটি পাদোভায় ফিরে এসেছিলাম। রাত ৯:৩০ এ পাদোভা নেমে বুকের ভেতর একরাশ মুগ্ধতা।

Manual2 Ad Code

একদিনের ভেনিস আমার ২ মাসের ইতালি ভ্রমণের সেরা দিন। ১১৮টি দ্বীপ, ১৭৭টি খাল, ৪৩৮টি সেতুর এই শহর শুধু দেখার জায়গা না। এখানে পেয়েছি ইতিহাসের ছোঁয়া। শেক্সপিয়ারের সাহিত্য, মার্কো পোলো-বায়রনের স্মৃতি, রিছত্ত এর স্বাদ, অবিস্মরণীয় সানসেট, আর প্রবাসী বাংলাদেশী ভাইদের উষ্ণতা।
ভ্রমণ আমার সখ। আর ভেনিস সেই সখের মুকুটে যোগ করেছে এক নতুন পালক। জলের শহর ভেনিস — যেখানে প্রতিটি ঢেউ একটা কবিতা লেখে। ভেনিস দেখলাম চোখ দিয়ে, পাদোভা দেখলাম মন দিয়ে।

পাদোভাতে গ্রিল পার্টি ও কমিউনিটির সাথে সাক্ষাৎ :
ভেনিস ঘুরে এসে শরীর ক্লান্ত, কিন্তু মন তখনও পানির শহরের রঙে ভেজা। গন্ডোলার দোল, ব্রিজের আলো, সেন্ট মার্কস স্কয়ারের কবুতর—সব মাথায় ঘুরছে। ঠিক তখনই সিদ্ধান্ত হলো, ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে হবে। আর ক্লান্তি ঝাড়ার সিলেটি ওষুধ একটাই—গ্রিল পার্টি।

গরমের দিন ছিল। রোদের তাপে পাদোভার রাস্তা ঝলমল করছিল। আমি আর কয়েকজন মিলে দুপুর বেলায় পাদোভা প্রবাসীদের নিয়ে দুইটা পৃথক গ্রিল পার্টি আয়োজন করলাম। উদ্দেশ্য একটাই—দেশের স্বাদ আর দেশের মানুষ।
প্রথম আয়োজন সাব্বির আহমদ এর বাসায়। সাব্বির ভাইয়ের ফ্ল্যাটের গার্ডেনটাই সেদিন পিকনিক স্পট। দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে আমন্ত্রিত মানুষ আসা শুরু। কন্ট্রাক্টর তাহির উদ্দিন ভাই এলেন সবার আগে। এরপর এলেন সালাউদ্দিন খসরু ভাই। উনার হাসিটা দেখলেই বোঝা যায়, উনি আয়োজনের মানুষ। শাহাব উদ্দিন ভাই নিয়ে এলেন মশলা। সুলতান আহমদ ভাই আর ফারুক আহমদ ভাই মিলে কয়লা ধরালেন। গ্রিলের গন্ধে গার্ডেন ভরে গেল। সাথে ছিল পরোটা, পেঁয়াজ, লেবু, অলিভ আর সবার প্রিয় সাতকরার আচার। আড্ডার বিষয়? দেশ। কানাইঘাটের রাস্তা, সিলেটের বন্যা। তাহির ভাই বললেন, “বিদেশে থেকেও যদি সপ্তাহে একবার এমন আড্ডা না হয়, তবে প্রবাসের কি দাম?”

দ্বিতীয় আয়োজন ফারুক ভাইয়ের বাসায় নভেন্তায়। কয়েক দিন পর দ্বিতীয় দফা। ফারুক ভাইয়ের বাসার বারান্দা। এখানে ছিলেন আনিছ ভাই, জুনেদ আহমদ ভাই, জাহাঙ্গীর ভাই, বেলাল আহমদ ভাই, নজরুল ভাই, লুৎফুর ভাই, খয়ের উদ্দিন, পাখি মিয়া প্রমুখ। জুনেদ ভাই গ্রিল উল্টাতে উস্তাদ। বেলাল ভাই গল্প বলেন চমৎকার। নজরুল ভাই চুপচাপ শুনেন, মাঝে মাঝে একটা কথা বলে সবাইকে হাসান। গরমের দিন, ফ্যানের বাতাস আর গ্রিলের ধোঁয়া। মনে হচ্ছিল এটা পাদোভা না, এটা সিলেটের কোনো বাড়ির উঠান। দুই জায়গার আড্ডাই পিকনিকের রূপ নিয়েছিল। খাবার শেষে গোল হয়ে বসা। কারো চাকরির টেনশন, কারো কার্ড দ্য সৌজন্যর টেনশন, কারো বাড়িতে টাকা পাঠানোর হিসাব। কিন্তু সেই টেনশনের মাঝেও হাসি ছিল। কারণ মানুষগুলো ছিল আপন। সেদিন বুঝেছি, প্রবাস মানে একা না। পাদোভার মতো ছোট শহরেও আমরা দেশ বানিয়ে ফেলি। আজ অনেক বছর পরও যখন গ্রিলের গন্ধ নাকে আসে, চোখ বন্ধ করলে দেখি সাব্বির ভাইয়ের গার্ডেন আর ফারুক ভাইয়ের বারান্দা। দেখি তাহির ভাইয়ের হাসি, জুনেদ ভাইয়ের হাতের গ্রিল। সেই দিনগুলোর স্মৃতি আজও মনে পড়ে।
পাদোভায় বাংগালী কমিউনিটির কয়েক জন নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, আলাপ আলোচনা করেছি। এদের মধ্যে শফিক চৌধুরী চাচা প্রবীণ মুরব্বি। স্বপরিবারে ইতালিতে থাকেন। মিস্টার শাহাব উদ্দিন ভাইয়ের বাবা। তিনি ইতালিতে আমার ভ্রমণের খবর পেয়ে বাসায় আমন্ত্রণ জানালেন। তিনির বাসায় লাঞ্চ করার পর বেশ সময় আলাপ করলেন। বললেন, “আমি তোমার নাম শোনেছি। তোমার বাবা ডা. সিরাজুল ইসলাম এবং তোমার মামা মিসবাহুল ইসলাম চৌধুরী সহ কয়েকজন একসাথে দুবাইতে ছিলাম।” ইতালিতে আরও যাঁদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শিবলী ভাই, সিরাজ ভাই, খসরু খান ভাই, কামাল উদ্দিন জুয়েল ভাই, আব্দুর রহমান বুলবুল মামা, মুসলিম উদ্দিন ভাই, শাহাদাত ভাই, ইমতিয়াজ ভাই, আজাদ চৌধুরী ভাই, শাহিন ভাই, লুৎফুর ভাই, তাহির উদ্দিন ভাই, মোক্তাদির ভাই, রাহেল ভাই, মজনু ভাই, নুরানি ভাই, হাফিজ ভাই, ইসলাম ভাই, রাসেল ভাই, গফুর ভাই, জসিম ভাই অন্যতম।

পাদোভায় রিলাক্স মুডে আনন্দঘন দিন :
ইউরোপের মাঝে ইতালি মানেই শিল্প, ইতিহাস আর খাবারের স্বর্গ। আমার বেশ কয়েক দিন বসবাসের যায়গা ছিলো উত্তর ইতালির ভেনেতো অঞ্চলের ছোট কিন্তু ভীষণ চার্মফুল এই সিটি পাদোভায়। ফ্রান্স থেকে আমি ইতালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই। উদ্দেশ্য একটাই প্রিয়জনের সান্নিধ্যে রিলাক্স মুডে কিছুদিন কাটানো। পাদোভা ইতালির প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি। ১১৮৫ খ্রিস্টপূর্বে প্রতিষ্ঠিত। রোম থেকেও পুরনো। ভেনিস থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের ট্রেন। কিন্তু ভেনিসের ভিড় নেই। সাইকেল, ট্রাম, পুরনো বিল্ডিং, আর্কেড সব মিলিয়ে একদম রিলাক্স। দীর্ঘ দিনে একবারও মনে হয়নি আমি বিদেশে। মনে হয়েছে নিজের বাড়িতে রিলাক্স করছি।

পাদোভার সুন্দর জায়গা, আমি যা ঘুরেছি।
পাদোভা ছোট শহর, কিন্তু দেখার মতো অনেক কিছু। পাদোভার অলিগলি ঘোরে দেখেছি।
প্রাতো দেলা ভালে :
ইউরোপের সবচেয়ে বড় স্কয়ারগুলোর একটি। ৯০,০০০ স্কয়ার মিটার। মাঝখানে ছোট দ্বীপ, চারপাশে খাল আর ৭৮টি মূর্তি। বিকেলে এখানে বসে থাকতাম ঘন্টার পর ঘন্টা। বাচ্চারা খেলছে, কাপলরা আইসক্রিম খাচ্ছে। শনিবারে এখানে মার্কেট বসে।

স্ক্রোভেগনি চ্যাপেল :
ইতালির গর্ব। ১৩০৫ সালে জিওত্তো আঁকা ফ্রেস্কো। দেয়ালে যিশুর জীবন। টিকেট ১৩ ইউরো। ভেতরে ১৫ মিনিট থাকতে দেয়। ১৫ মিনিটেই মাথা ঘুরে যায় এত সুন্দর!

Manual3 Ad Code

ব্যাসিলিকা দি সান্ত আন্তোনিও :
পাদোভার প্রাণ। সেন্ট অ্যান্টনি এখানে শায়িত। প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসে।

পালাজ্জো দেলা রাগিওনে :
পুরনো কোর্ট। ভেতরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় ছাদ। নিচে ফলের মার্কেট। সকাল ৮টায় তাজা ফল কিনতে যেতাম।

ওরতো বোটানিকো :
পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো বোটানিক্যাল গার্ডেন। ১৫৪৫ সালে তৈরি। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃত। ভেতরে ৬০০০ গাছ।

ক্যাফে পেদ্রোকি :
১৮৩১ সালের ক্যাফে। বলা হয় “দরজা ছাড়া ক্যাফে” কারণ ১০০ বছর ধরে ২৪ ঘন্টা খোলা ছিলো। এখানে মিন্ট কফি বিখ্যাত।
এছাড়া রিভেরা , ভেরোনা এবং মিলান ডে-ট্রিপ করেছি।

ইউনিভার্সিটি অফ পাদোভা :
১২২২ সালে প্রতিষ্ঠিত। ইউরোপের দ্বিতীয় প্রাচীন ইউনিভার্সিটি। গ্যালিলিও এখানে পড়াতেন।

Manual5 Ad Code

ইতালির প্রসিদ্ধ খাবার — যা খেয়েছি : পাস্তা, পিজ্জা, রিজোত্তো, জেলাতো, তিরামিসু, এসপ্রেসো, পারমেসান চিজ।
পাদোভা তথা ইতালির মানুষ খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। দোকানে গেলে, দেখা হলে চাও (Ciao) বলে। আন্তরিক সম্ভাষণ। ‘চাও’ শব্দটির অর্থ একই সাথে ‘হ্যালো’ এবং ‘বাই’। বেশ কয়েক বার গিয়েছি সেই পাদোভাতে। কারণ চার্মফুল সিটির চার্ম একবার লাগলে ছাড়ে না। #

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code