প্রচ্ছদ

ওষুধ নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস সুস্থ রাখবে লিভার

  |  11:07, August 24, 2026
www.adarshabarta.com

Manual7 Ad Code

আদর্শবার্তা ডেস্ক :

শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে লিভার অন্যতম। শরীরে প্রবেশ করা বিভিন্ন পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করা, রক্ত থেকে কিছু ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ, পিত্তরস তৈরি এবং রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে লিভার।

অ্যালকোহল, কিছু ওষুধ, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে কোনো খাবার সরাসরি লিভারকে ‘ডিটক্স’ বা পরিষ্কার করে দেয়—এমন ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

লিভারের সুস্থতায় খাদ্যতালিকায় যেসব খাবার রাখা যেতে পারে—

রসুন :
রসুনে বিভিন্ন সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত রসুন খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও বিপাকীয় কার্যক্রমের জন্য উপকারী হতে পারে।

সাইট্রাস ফল :
কমলা, মাল্টা, জাম্বুরা ও লেবুর মতো ফলে ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব ফল সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে লিভারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যে সহায়ক হতে পারে।

ব্রোকলি ও অন্যান্য সবজি :
ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য ক্রুসিফেরাস সবজিতে ফাইবার ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। নিয়মিত শাক-সবজি খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং লিভারের জন্যও উপকারী।

Manual2 Ad Code

হলুদ :
হলুদে কারকিউমিন নামের একটি যৌগ রয়েছে, যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে হলুদ বা কারকিউমিনকে কোনো লিভার রোগের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

Manual1 Ad Code

আখরোট :
আখরোটে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে বাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

বিটরুট :
বিটে ফাইবার, ফোলেট ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। অন্যান্য সবজির মতো এটি নিয়মিত ও পরিমিত খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

গাজর :
গাজরে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। শরীরে এগুলো ভিটামিন এ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। লিভারসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত শাক-সবজি খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রিন টি :
গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে সাধারণ গ্রিন টি এবং ঘনত্ব বেশি গ্রিন টি-এক্সট্র্যাক্ট এক জিনিস নয়। অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রিন টি-এক্সট্র্যাক্ট গ্রহণের সঙ্গে লিভারের ক্ষতির ঘটনা দেখা গেছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।

আপেল :
আপেলে ফাইবার, বিশেষ করে পেকটিন রয়েছে। পর্যাপ্ত ফাইবার হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত ফল রাখা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

Manual6 Ad Code

অ্যাভোকাডো :
অ্যাভোকাডোতে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, ফাইবার ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে এটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

লিভার ভালো রাখতে শুধু খাবার নয়
লিভার সুস্থ রাখতে কোনো একটি ‘ডিটক্স খাবার’ এর ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

লিভারের কোনো রোগ, অস্বাভাবিক লিভার এনজাইম বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে শুধু খাবারের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Manual4 Ad Code

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code