প্রচ্ছদ

দিগন্ত ভ্রমণের স্মৃতি, পর্ব-০৩

  |  11:57, August 31, 2026
www.adarshabarta.com

Manual1 Ad Code

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলস : চকলেট, ওয়াফল ও রাজনীতির শহর
দেলওয়ার হোসেন সেলিম ✍️

ইউরোপ মানেই রাজা-রানির দেশ। আর সেই ইউরোপের রাজধানী বলা হয় বেলজিয়ামের ব্রাসেলস শহরকে। কারণ এখানেই অবস্থিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ন্যাটো এর সদর দপ্তর। ফ্রেঞ্চ ও ডাচ দুই ভাষার শহর। একদিকে ১০ বছরের মধ্যযুগীয় ইতিহাস, অন্যদিকে ২৭টি দেশের ৪ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ ঠিক করার রাজনীতি। আর মাঝে মাঝে বাতাসে চকলেট আর ওয়াফল এর মিষ্টি গন্ধ।

২০১৪ সালে ব্রাসেলস ভ্রমণে গিয়েছিলাম।
প্যারিস এ থাকি তখন। একদিনের ছুটিতে সিদ্ধান্ত নিলাম ব্রাসেলস যাব। আমার সাথে ভ্রমণ সঙ্গী ছিলেন লোকমান আহমদ ভাই এবং এমরান ভাই। সকাল ৬টায় প্যারিসের গার দ্যু নর্দ এরিয়া থেকে ইউরোলাইনস বাসে উঠলাম। ভাড়া ২৫ ইউরো জনপ্রতি। মাত্র ৩ ঘন্টার পথ। পথে ফ্রান্সের সবুজ মাঠ, বেলজিয়ামের বাতাস। ব্রাসেলস মিডি স্টেশন এ নামলাম সকাল ৯টা ৫ মিনিটে।
সেদিনের ব্রাসেলস শুধু ঘোরাঘুরি ছিল না। ছিল রাজনীতি, ইতিহাস, শিল্প আর প্রবাসী বাংলাদেশের ছোঁয়া। আর সবচেয়ে বড় পাওয়া—ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট এর সামনে দাঁড়িয়ে তোলা আমার সেই ছবি।

গ্র‍্যান্ড প্লাস – ইতিহাসের বুকে প্রথম পা :
মিডি স্টেশন থেকে মেট্রো লাইন ২ ধরে বোর্স স্টেশনে নামলাম। ১০ মিনিট হাঁটা। তারপরই সামনে খুলে গেল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর স্কয়ারগুলোর একটি গ্র্যান্ড প্লাস বা গ্রুট মার্ক। এটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। ১৬৯৫ সালে ফ্রান্সের বোম্বিং এর পরও এই স্কয়ার অক্ষত ছিল। চারপাশে ১৭ শতকের গিল্ড হাউস। সোনালি কারুকাজ, পাথরের মূর্তি, জটিল নকশা। প্রতিটা বিল্ডিং একেকটা গল্প বলে। মাঝখানে ৯৬ মিটার উঁচু ব্রাসেলস সিটি হল এর গথিক টাওয়ার। টাওয়ারের মাথায় আর্চএঞ্জেল মাইকেল এর মূর্তি। সকালের রোদে পুরো স্কয়ারটা সোনার মতো ঝলমল করছিল। ঘোড়ার গাড়ি যাচ্ছে, পর্যটকরা ছবি তুলছে, রাস্তার শিল্পী ভায়োলিন বাজাচ্ছে।

Manual3 Ad Code

গাইড ভাই বললেন, “প্রতি ২ বছর পর আগস্টে এখানে ৭ লক্ষ বেগোনিয়া ফুল দিয়ে ফ্লাওয়ার কার্পেট বানানো হয়। ৭৫ মিটার লম্বা, ২৪ মিটার চওড়া। ১৮ জন মালি ৪ ঘন্টায় বানায়”। আমি আগস্টে যাইনি, তাই কল্পনায় দেখে নিলাম।

Manual6 Ad Code

কিংস হাউস এখন ব্রাসেলস সিটি মিউজিয়াম। টিকেট ৮ ইউরো। ভেতরে শহরের ১০০০ বছরের ইতিহাস। ম্যানেকেন পিস এর আসল কাপড়গুলো এখানে রাখা আছে। গ্র্যান্ড প্লাস এ দাঁড়িয়ে বুঝলাম, ব্রাসেলস তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। আধুনিক ইইউ এর পাশে মধ্যযুগীয় সৌন্দর্য। এটাই ব্রাসেলসের ম্যাজিক।

ম্যানেকেন পিস – ছোট মূর্তি, বড় গর্ব :
গ্র্যান্ড প্লাস থেকে ৫ মিনিট হাঁটা। রু দ্যু শেন গলির মোড়ে ভিড়। উঁকি দিয়ে দেখি ৫৫.৫ সেমি লম্বা একটি বালক মূর্তি। নাম ম্যানেকেন পিস প্রস্রাবরত মূর্তি। ১৬১৯ সালে ভাস্কর জেরোম ডু কুয়েসনোয় বানিয়েছিলেন। কথিত আছে, ১৪ শতকে শহরে আগুন লাগলে এই বালক প্রস্রাব করে আগুন নিভিয়েছিল। তাই সে ব্রাসেলসের প্রতীক। তার জন্য ১০ এর বেশি ড্রেস আছে। রাজা, পুলিশ, সান্তা, ফুটবলার—সব সাজে তাকে। প্রতি সপ্তাহে ড্রেস চেঞ্জ হয়। আমি যেদিন গিয়েছি সেদিন তার গায়ে ছিল লাল-সবুজ পোশাক। তার পাশেই জিনেকেন পিস মেয়ে বালিকা মূর্তি। আর জাটকে পিস কুকুর মূর্তি। ৩ টি মিলে ব্রাসেলসের “প্রস্রাবরত মূর্তি”।

Manual3 Ad Code

অ্যাটোমিয়াম – বিজ্ঞান আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন :
এরপর মেট্রো লাইন ৫ ধরে গেলাম হেইসেল এলাকায়। উদ্দেশ্য অ্যাটোমিয়াম দেখা। ১৯৫৮ সালের _ওয়ার্ল্ড এক্সপো এর জন্য বানানো। স্থপতি আন্দ্রে ওয়াটারকেইন।
১০২ মিটার উঁচু। লোহার পরমাণুর ১৬৫ বিলিয়ন গুণ বড় মডেল। ৯টি স্টিলের বল, প্রতিটা ১৮ মিটার ব্যাস। পাইপ দিয়ে জোড়া। রাতে নীল আলো জ্বলে। টিকেট ১৬ ইউরো। লিফটে করে সবচেয়ে উপরের বলে উঠলাম। কাঁচের জানালা দিয়ে পুরো ব্রাসেলস শহর। ডানে ইউরোপিয়ান কোয়ার্টার, বাঁয়ে পুরনো শহর। ভেতরে বিজ্ঞানের প্রদর্শনী। ১৯৫০ এর ডিজাইন, লাইটিং—সব ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়। অ্যাটোমিয়াম আমাকে শিখিয়েছে, ইউরোপ শুধু রাজনীতি না। বিজ্ঞান, শিল্প, প্রদর্শনীতেও তারা সেরা। নিচে নেমে মিনি-ইউরোপ পার্ক দেখলাম। ইউরোপের সব বিখ্যাত বিল্ডিং এর মিনিয়েচার।

ইউরোপিয়ান কোয়ার্টার এর হৃদয় এবং আমার ছবির গল্প :
দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট। এবার আসল গন্তব্য। সুমান মেট্রো স্টেশনে নামলাম। বের হয়েই চারপাশে কাঁচ আর স্টিলের বিশাল বিল্ডিং। এটা ইউরোপিয়ান কোয়ার্টার। এখানে ইউরোপিয়ান কমিশন, কাউন্সিল অফ ইইউ, আর ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট। ২৭টি দেশ, ৪৪ কোটি মানুষের সিদ্ধান্ত এখান থেকেই হয়। আমি সোজা গেলাম ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট ইনফরমেশন অফিস ইন বেলজিয়াম এর সামনে। এখানেই আমার ছবিটা তোলা। হাতে নোটবুক, গায়ে কালো জ্যাকেট। পেছনে ইইউ এর ১২ তারার নীল পতাকা আর পার্লামেন্ট এর আধুনিক বিল্ডিং পল-হেনরি স্পাক। সাংবাদিক মনটা কিছুতেই চুপ থাকতে পারে না। ভেতরে ঢুকলাম।

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট এর কার্যক্রম :
ইনফরমেশন অফিস টা একদম ফ্রি। টিকেট লাগে না। ভেতরে ঢুকতেই বড় লিড স্ক্রিন। সেখানে সরাসরি দেখাচ্ছে স্ট্রাসবুর্গ এ চলমান প্লেনারি সেশন। ৭০৫ জন এমইপি বসে আছেন।
একজন তরুণ অফিসার এগিয়ে এলেন। বললেন, “Can I help you?” আমি বললাম আমি সাংবাদিক, বাংলাদেশ থেকে এসেছি। উনি হেসে বললেন, “Welcome to the house of European democracy”।
তিনি ১০ মিনিট ধরে আমাকে বুঝালেন ইইউ কিভাবে কাজ করে। আমি ২টা ব্রোশিওর নিলাম। “How the European Parliament Works” আর “EU and the World”। বিনামূল্যে। অফিসার বললেন, “আপনি লিখবেন? EU এর গণতন্ত্র নিয়ে?” আমি বললাম, “হ্যাঁ, আমার দেশের মানুষকে জানাব”। ইউরোপিয়ান কোয়ার্টার এ দাঁড়িয়ে মনে হলো, এটা শুধু বিল্ডিং না। এটা ২৭টি দেশের আপস, আলোচনা আর ঐক্যের জায়গা। বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলোর জন্য ইইউ একটা মডেল। কিভাবে ভিন্নতা সত্ত্বেও একসাথে থাকা যায়।

ব্রাসেলসে প্রবাসী বাংলাদেশের কণ্ঠ :
সেদিন ব্রাসেলস শুধু চকলেট আর ওয়াফলের শহর ছিল না। ছিল প্রতিবাদের শহরও। দুপুর সাড়ে ১২ টা। ইউরোপিয়ান কোয়ার্টার এর শুমান চত্বর এ দেখি কয়েকশ মানুষের জটলা। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান। কাছে গিয়ে দেখি ইউরোপ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানার।
“নির্বাচন বাতিল করো, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও”
“Stop Killing, Stop Disappearance in Bangladesh”
ইউকে, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি, জার্মানি, ডেনমার্ক, সুইডেন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বিএনপির নেতাকর্মীরা এসেছেন। সকাল থেকেই তারা নির্ধারিত ইইউ সদর দপ্তর ও ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট এর সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। বিশেষ ভুমিকা পালন করছিলেন *ইউকে বিএনপি এর সিনিয়র নেতা আলহাজ্ব এম এ মালিক ভাই। তাঁর কণ্ঠে স্লোগান। সাথে ছিলেন ফ্রান্স বিএনপি নেতা জালাল খান ভাই, মনোয়ার হোসেন ভাই এবং ইলিয়াস আলী মুক্তি পরিষদ ফ্রান্সের অন্যতম সমন্বয়কারী তারেক আহমদ তাজ ভাই। আরো ছিলেন বেলজিয়াম, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এর দায়িত্বশীলরা। বিক্ষোভ শেষে বেলা ২ টায় বিএনপি নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধি দল ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট ইনফরমেশন অফিস এ প্রবেশ করেন। তাদের হাতে ছিল স্মারকলিপি। প্রতিনিধি দল _ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও পার্লামেন্ট এর প্রতিনিধির কাছে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তারা বলেন:
রাজনৈতিক অস্থিরতা: বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলা।
সহিংসতা ও হত্যা: গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুলি করে হত্যা।
গুম: শত শত নেতাকর্মীকে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাওয়া।
লুটপাট: ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট।
প্রহসনের নির্বাচন: জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে একতরফা নির্বাচন।
তারা জোর দাবি জানান, এই ধরনের প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করতে হবে। বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে কার্যকর ভুমিকা নিতে হবে।
পার্লামেন্ট এর একজন প্রতিনিধি স্মারকলিপি গ্রহণ করে বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখব। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার”।
বিকেল ৩টায় বিক্ষোভ শেষ হয়। নেতারা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “প্রবাসে থেকেও আমরা দেশকে ভুলিনি। ইউরোপের বুকে দাঁড়িয়ে আমরা বাংলাদেশের কথা বলব”।
সেদিন উপলব্ধি করেছিলাম, ব্রাসেলস শুধু ইইউ এর রাজধানী না। এটা প্রবাসী বাংলাদেশেরও কণ্ঠস্বর তোলার জায়গা। যেখানে দাঁড়িয়ে দেশের দুঃখ-সুখের কথা পৃথিবীকে শোনানো যায়।

পার্ক দ্যু সাঁকান্তেনেয়ার ও রয়্যাল প্যালেস :
পার্লামেন্ট থেকে ১০ মিনিট হাঁটা। পার্ক দ্যু সাঁকান্তেনেয়ার। ১৮৮০ সালে বেলজিয়ামের ৫০ বছর পূর্তিতে রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড বানিয়েছিলেন। মাঝখানে ৩টি খিলানওয়ালা আর্ক দে ত্রিওম্ফ। ৩০ মিটার উঁচু। খিলানের উপরে ব্রোঞ্জের মূর্তি। পার্কে স্থানীয়রা পিকনিক করছে, বাচ্চারা ফুটবল খেলছে। পার্কের ভেতরে মিলিটারি মিউজিয়াম ও অটোওয়ার্ল্ড মিউজিয়াম। এরপর প্লাস রয়্যাল। রয়্যাল প্যালেস। বেলজিয়ামের রাজার অফিসিয়াল বাসভবন। রাজা ফিলিপ এখানে কাজ করেন। গ্রীষ্মে জুলাই-আগস্টে সাধারণের জন্য খুলে দেয়। সামনে ব্রাসেলস পার্ক। গাছের ছায়ায় বসে ২০ মিনিট বিশ্রাম। আম্মা আব্বার কথা মনে পড়ছিল।

মন দে আর, ক্যাথেড্রাল ও সাবলো – শিল্প আর স্বাদ :
মন দে আর – শিল্পের পাহাড়। এখান থেকে পুরো ব্রাসেলসের ছাদ দেখা যায়। পাশে রয়্যাল লাইব্রেরি অফ বেলজিয়াম। ৭ মিলিয়ন বই। ভেতরে ঢুকে ১৫ মিনিট পুরনো বই ঘাঁটলাম। সেন্ট মাইকেল এন্ড সেন্ট গুডুলা ক্যাথেড্রাল। ১২৬ সালে শুরু। গথিক স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন। ভেতরের স্টেইন গ্লাস আর বিশাল অর্গান দেখে মাথা ঘুরে যায়। রবিবার এখানে অর্গান কনসার্ট হয়।

বিকেল ৪টা। গেলাম সাবলো জেলা। ব্রাসেলস মানেই চকলেট । সাবলো এলাকায় বিখ্যাত দোকান পিয়েরে মারকোলিনি, নয়হাউস লিওনিডাস । ১০ ইউরো দিয়ে এক বক্স চকলেট। সাথে রাস্তার পাশে গরম বেলজিয়ান ওয়াফল। উপরে চকলেট, কলা আর স্ট্রবেরি। ৪ ইউরো। মিষ্টির রাজ্য।

কমিকস আর্ট মিউজিয়াম ও ব্রাসেলসে বাংলাদেশ :
ব্রাসেলসকে বলা হয় কমিকসের রাজধানী। টিনটিন, স্মার্ফস, লাকি লুক এখানকারই সৃষ্টি। কমিকস আর্ট মিউজিয়াম ১৯৮৯ সালে আর্ট নুভো বিল্ডিং এ। টিকেট ১০ ইউরো। ১ ঘন্টা কেটে গেল। দেয়ালে দেয়ালে কার্টুনের ইতিহাস।
সন্ধ্যা ৬টা। গেলাম মাতোংগে এলাকায়। এটা ব্রাসেলসের আফ্রিকান কোয়ার্টার। এখানে প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশী থাকেন। বেশিরভাগ আন্ডারলেখট এর পাশেই। ছোট ছোট গ্রোসারি, হালাল দোকান, টেইলার।
“ঢাকা তন্দুরি” রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। মালিক ভাইর বাড়ি চট্টগ্রামে । বিরিয়ানি ১২ ইউরো, ডাল ৪ ইউরো, ভর্তা ৩ ইউরো। তিনি বললেন, “ভাই, আমরা এখানে বাংলাদেশের স্বাদ ধরে রেখেছি”। এখানেই দেখা হলো বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতা, রাজনীতিবিদ *মিস্টার আলম হোসেন* ভাইয়ের সাথে। তিনি ৫ বছর ধরে ব্রাসেলসে থাকেন। এসময় ৪-৫ জন প্রবাসীও ছিলেন। চা খেতে খেতে দেশের কথা। প্রবাসে এমন আড্ডা ভুলার মত নয়।

সূর্যাস্তের গ্র্যান্ড প্লাস ও ফেরা :
রাত ৭টা ৩০ মিনিট। শেষবারের মতো গেলাম গ্র্যান্ড প্লাস। দিনের আলো চলে গিয়ে বিল্ডিংগুলোতে সোনালি লাইট জ্বলে উঠেছে। দিনের চেয়ে রাতে আরও সুন্দর। ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম। সিটি হল এর টাওয়ারে ঘড়ি বাজল। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে মিডি স্টেশন থেকে আবার প্যারিসের বাস। ব্যাগে ৫০ গ্রাম চকলেট, ওয়াফল এর প্যাকেট, আর ইইউ এর ২টা ব্রোশিওর। আর বুকে একদিনের ব্রাসেলসের স্মৃতি। বাসে প্যারিস ফেরার সময় ভাবছিলাম। সকালে দেখলাম গ্র্যান্ড প্লাস এর সৌন্দর্য। দুপুরে দেখলাম ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট এর গণতন্ত্র। আর বিকেলে দেখলাম প্রবাসীদের দেশপ্রেম। সেদিন ছিলো একটি ব্যস্ততম দিন। আর ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট এর সামনে তোলা ছবিটা? ওটা আমার কাছে শুধু ছবি না। ওটা প্রমাণ যে একজন সাধারণ বাংলাদেশীও গিয়ে দাঁড়াতে পারে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দরজায়। #

আগামী পর্বে : দিগন্ত ভ্রমণের স্মৃতি,পর্ব-০৪।
জলের শহর ভেনিস: পানিতে ভাসমান স্বপ্ন

Manual3 Ad Code

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code