দিগন্ত ভ্রমণের স্মৃতি, পর্ব-০২
বার্সেলোনার রঙ: গাউদি, অলিম্পিক ও বৈশাখী উৎসব
দেলওয়ার হোসেন সেলিম ✍️
স্পেন মানেই ফ্ল্যামেঙ্কো নাচ, ষাঁড়ের লড়াই আর ফুটবলের দেশ। আর সেই স্পেনের প্রাণকেন্দ্র *বার্সেলোনা*। কাতালোনিয়া অঞ্চলের রাজধানী এই শহর — যেখানে স্থাপত্য কথা বলে, সমুদ্র গান গায়, আর রাস্তায় রাস্তায় শিল্প। বার্সেলোনা ভূমধ্যসাগরের কোল ঘেঁষা রঙিন শহর। ২০১২ সালে বেশ কয়েক দিনের জন্য ছিলাম এই যাদুর শহরে।
প্যারিস থেকে বার্সেলোনা ও থাকার ঠিকানা :
প্যারিস থেকে আমি এবং কবির আহমদ ভাই একসাথে বার্সেলোনায় গিয়েছিলাম। এটি ছিল লম্বা জার্নি। থাকার জায়গা হয়েছিল বার্সেলোনা শহরের রামলা রাভাল এর কাছে কাইয়ে রিয়ে রিটা এর একটি বাসায়। চারপাশে সরু গলি, গ্রাফিতি, আর রাত ১২টা পর্যন্ত জেগে থাকা মানুষ। মনে হলো শহর কখনো ঘুমায় না।
রামলা রাভাল ও বাংলাদেশী পাড়া :
বার্সেলোনায় পা রাখতেই প্রথমে অবাক হলাম এখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটি দেখে। আমাকে রিসিভ করতে এসেছিলেন কমিউনিটির পরিচিত মুখ মিস্টার মোক্তার আহমদ ভাই সাহেব এবং মিস্টার আলা উদ্দিন ভাই। তাঁদের দেশের বাড়ি আমাদের এলাকায়। সিলেটের মানুষ। এরপরেই খবর পেয়ে ছুটে এসেছিলেন মাসুক ভাই। মাসুক ভাই ১৫ বছর ধরে বার্সেলোনায় বসবাস করেন। তিনি বললেন, “ভাই, আপনি আমার মেহমান। যতদিন আছেন,বার্সেলোনা আমি ঘুরিয়ে দেখাব।” বার্সেলোনায় প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশী থাকেন। বেশিরভাগই এল রাভাল ও সান্ত মার্টি এলাকায়। রাস্তায় “ঢাকা টেলিকম”, “সোনার বাংলা গ্রোসারি” চোখে পড়ে।
কমিউনিটি মিটিং ও মতবিনিময় :
মাসুক ভাই আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিটি বার্সেলোনা এর অফিসে। সেখানে কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও তরুণদের সাথে মতবিনিময় হলো। প্রবাসে তারা কিভাবে সংস্কৃতি ধরে রেখেছেন, দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন — সেই গল্প শুনলাম। সবাই বললেন, “ভাই, আপনারা লেখেন, আমরা দেশের কথা মনে রাখি”।
মসজিদে জুমার নামাজ :
“শাহ জালাল মসজিদ” এ জুমার নামাজে প্রায় ৫০০ মানুষ। ইমাম সাহেব বাংলায় খুতবা দেন। নামাজ শেষে খেজুর ও পানি পান করলাম। বাইরে বেরিয়ে দেখা হলো লতিফিয়া আইডিয়াল সোসাইটির পরিচালক ক্বারি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ভাইয়ের সাথে। তিনি কোরআন শিক্ষা নবিজীর আদর্শের কথা বললেন।
সবচেয়ে বড় আয়োজন — বৈশাখী উৎসব :
সবচাইতে বড় প্রোগ্রাম ছিল বার্সেলোনায় বাংলাদেশী কমিউনিটি আয়োজিত বৈশাখী উৎসব। পার্ক দে লা সিউতাদেল্লা এর একপাশে। দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। লাল-সাদা শাড়ি পরা আপারা, পাঞ্জাবি পরা ভাইয়েরা, ছোট ছোট বাচ্চারা। স্টলে স্টলে পান্তা-ইলিশ, ভর্তা, ফুচকা, চটপটি। একপাশে নাগরদোলা, পুতুল নাচ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডনের মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট সাংবাদিক রেজা আহমদ ফয়সাল চৌধুরী সোয়েব। তিনি মঞ্চে উঠে বললেন, “প্রবাসে বসে বাংলার সংস্কৃতিকে এভাবে ধরে রাখার জন্য বার্সেলোনা কমিউনিটিকে অভিনন্দন”। তাঁর বক্তব্য শুনে সবাই করতালি দেয়। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের মাতিয়ে রাখে। একে একে গাওয়া হলো _”এসো হে বৈশাখ”_, _”আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো”_, _”নতুনের গান”_। নৃত্য শিল্পীরা _নকশি কাঁথার মাঠ_, _গাজীর গান_ পরিবেশন করলেন। ছোট বাচ্চারা আবৃত্তি করল _”বাংলাদেশ”_ কবিতা। স্প্যানিশ মানুষরাও এসে ভিড় করেছে। তারা অবাক হয়ে দেখছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই উৎসব প্রমাণ করে দিল — ৭ হাজার কিলো মিটার দূরে থেকেও বাংলাদেশীরা কতটা শিকড় আঁকড়ে বাঁচে।

বার্সেলোনার পর্যটন স্পট ও আমার স্মৃতি :
সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া- অসমাপ্ত স্বপ্ন। বার্সেলোনায় প্রথমেই দেখতে গেলাম আন্তোনি গাউদি এর মাস্টারপিস এই সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়াতে। ১৮৮২ সালে শুরু, আজও কাজ চলছে। ভেতরে রঙিন কাঁচের মধ্য দিয়ে রোদের খেলা। মনে হয় রোমাঞ্চ জগতের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। প্রবেশ টিকেট ২৬ ইউরো।
পার্ক গুয়েল- রঙের রাজ্য :
গাউদির আরেকটি সৃষ্টি। পাহাড়ের উপর পুরো পার্কটা যেন শিশুর আঁকা ছবি। মোজাইক করা বেঞ্চ, বিখ্যাত টিকটিকি।
আর উপরে উঠে পুরো বার্সেলোনা শহর ও ভূমধ্যসাগর দেখা যায়।
গথিক কোয়ার্টার ও বার্সেলোনা ক্যাথেড্রাল :
শহরের পুরনো অংশ ব্যারি গোথিক। ১৪ শতকের বার্সেলোনা ক্যাথেড্রাল। ভেতরে ১৩টি রাজহাঁস দেখে চমৎকার লাগলো।
লা রাম্বলা ও লা বোকেরিয়া মার্কেট :
প্রতিদিন বিকেলে হাঁটতাম লা রাম্বলা দিয়ে। মাঝখানে ইলা বোকেরিয়া মার্কেট। ফল, সামুদ্রিক মাছ, হ্যাম এর গন্ধ। ৩ ইউরো দিয়ে ফ্রেশ জুস।
প্লাসা দে এস্পানিয়া – আমার ছবির স্মৃতি :
ছবিতে যে জায়গায় আমি দাঁড়িয়ে আছি সেটাই প্লাসা দে এস্পানিয়া। দুই পাশে দুটি তোরেস ভেনেসিয়ানেস। সামনে পালাউ নাসিওনাল। রাত ৯টায় ম্যাজিক ফাউন্টেন এর শো। পানি, আলো আর মিউজিক। হাজার মানুষের সাথে দাঁড়িয়ে দেখেছি।
এস্তাদি অলিম্পিক :
এস্তাদি অলিম্পিক লুইস কোম্পানিস
পাহাড়ের উপরেই ১৯৯২ সালের অলিম্পিক স্টেডিয়াম এস্তাদি অলিম্পিক। দেখা যায় বিশাল মাঠ, ৬০ হাজার দর্শক আসনের গ্যালারি আর নীল রঙের অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক। গ্যালারিতে বসে ভাবছিলাম, এখানেই একসময় পৃথিবীর সেরা অ্যাথলেটরা দৌড়েছে।
প্লাসা দে ইউরোপা ও পালাউ সান্ত জর্দি :
অলিম্পিক স্টেডিয়ামের পাশেই প্লাসা দে ইউরোপা। সেখানে উঁচু উঁচু ১৩টি স্তম্ভ আর ঢেউ খেলানো ছাদের পালাউ সান্ত জর্দি। অলিম্পিকের স্মৃতি এখনো বেঁচে আছে।
কাসা বাতলো ও কাসা মিলা :
পাসেইচ দে গ্রাসিয়া রাস্তায় গাউদির আরও দুটি বাড়ি। একটা ঢেউয়ের মতো, আরেকটা পাথরের খনি।
বার্সেলোনেতা বিচ :
স্পেনের বার্সেলোনা শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত হলো বার্সেলোনেতা বিচ। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত এই বিচটি সোনালী বালুচর, প্রাণবন্ত ভূমধ্যসাগরীয় পরিবেশের জন্য দারুণ আকর্ষণীয়। ভূমধ্যসাগরের পাড়ে বসে অনেক পর্যটক চুরুজ খায়। বার্সেলোনার বিখ্যাত খাবার চুরুজ হলো ময়দার খামির দিয়ে তৈরি সোনালী ও মুচমুচে ভাজা এক ধরণের মিষ্টি খাবার। বিচে সামার সিজনে বহু সংখ্যক টুরিস্ট সূর্য স্নান করেন। এখানকার প্রধান আকর্ষণ বড় বড় প্রমোদতরী।
ক্যাম্প ন্যু – ফুটবলের তীর্থ :
স্পেনের বার্সেলোনায় অবস্থিত ১৯৫৭ সাল থেকে এফসি বার্সেলোনা এর ঐতিহাসিক ও পবিত্র হোম ভেন্যু। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এই স্টেডিয়ামটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ‘ফুটবলের তীর্থস্থান’ হিসাবে পরিচিত।
৯,৯০০০ দর্শক ধরে। মিউজিয়ামে মেসির জার্সি দেখলাম। গায়ে কাঁটা দেয়।
তিবিদাবো :
বার্সেলোনা শহরের কাছে অবস্থিত ৫২০ মিটার উঁচু একটি পাহাড় হলো তিবিদাবো। এটি বার্সেলোনার সর্বোচ্চ চূড়া, যেখান থেকে পুরো শহর ও ভূমধ্যসাগরের চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়। শহরের সবচেয়ে এই উঁচু জায়গা থেকে সূর্যাস্ত দেখে অসাধারণ লেগেছে।
পিকাসো মিউজিয়াম :
এল বর্ন এলাকায়। পিকাসোর ৪০০০ এর বেশি আর্টওয়ার্ক। তার ছোটবেলা থেকে কিউবিজম পর্যন্ত সব।
স্পেনের স্বাদ ও কমিউনিটির আতিথেয়তা :
দুপুরের খাবারের সময় অনেকের সাথে প্রায়ই নতুন রেস্টুরেন্টে গিয়ে মজাদার বিভিন্ন আইটেমের খাবার খেয়েছি। এর মধ্যে পায়েয়া, তাপাস, পাতাস ব্রাভাস, ক্রেমা কাতালানা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আমার চাচাতো ভাই মোক্তার আহমদ ভাই সাহেব কমিউনিটির একজন ব্যক্তিত্ব। তাঁর নিজের সুপার শপ ও রেস্টুরেন্ট আছে বার্সেলোনায়। বৈশাখী উৎসবের আয়োজনে তাঁর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। আমাকে আপ্যায়ন এবং সার্বিক সহায়তা করেছেন।
মিস্টার শামীমুল হক শামীম ভাই তাঁর বাসায় আমন্ত্রণ করে লাঞ্চ করিয়েছেন। তিনি স্বপরিবারে বার্সেলোনায় বসবাস করছেন ৩ বছর থেকে। শামীম ভাই যখন স্পেন এম্বেসি নিউ দিল্লিতে যান, তখন আমিও নিউ দিল্লিতে ভ্রমণে ছিলাম। এক হোটেলেই দুজন থেকেছি। তিনি স্পেনের ভিসা পাওয়ার পরে আমি অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলাম, হয়তো আবার দেখা হবে ইউরোপে। সত্যিই দেখা হয়ে গেলো।
আমার ভাগ্না মিস্টার আখতার আমাকে ব্লানকেট, বালিশ ক্রয় করে দিয়েছিল বার্সেলোনা যাওয়ার প্রথম দিনেই। তার চাচাদের বাসায় একদিন দাওয়াত খাওয়ার সুস্বাদু আইটেমের কথা এখনো মনে পড়ে।
বার্সেলোনার আড্ডা :
বার্সেলোনার সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়ার গম্বুজ, লা রাম্বলার কোলাহল আর রাতের সমুদ্রের ঢেউ—সবকিছুর মাঝে একটা জায়গা ছিল আমাদের, যেখানে মনটা ঘরে ফিরে যেত। সেটা ছিল আড্ডা। প্রবাসে আড্ডা মানে শুধু গল্প না। আড্ডা মানে দেশ। আড্ডা মানে মায়ের হাতের ভাতের স্বাদ মনে করা। বার্সেলোনায় মাঝে মাঝে এমন আড্ডা জমতো, যার রেশ থেকে যেত সপ্তাহের পর সপ্তাহ। আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন আলাউদ্দিন ভাই। উনার হাসিটাই ছিল আড্ডার চাবি। তারপর কবির ভাই, শাহিন ভাই, মঞ্জুর ভাই—তিনজন মিলে রাজনীতি থেকে ফুটবল, সব বিষয়ে তর্ক জুড়ে দিতেন। হাফিজ ভাই আর ইসলাম ভাই ছিলেন শান্ত স্বভাবের শ্রোতা। মাঝে মাঝে একটা লাইন বলে পুরো আড্ডা ঘুরিয়ে দিতেন। নাজমুল ভাই আর আলী হোসেন ভাই আসতেন কাজ শেষে। ক্লান্ত শরীর, কিন্তু আড্ডায় বসলে ক্লান্তি উধাও। মাসুক ভাইয়ের কাছে থাকতো সর্বশেষ খবর। দেশের, এলাকার, পরিবারের। রাজু ভাই আর আখতার জামান ভাই গল্প বলতেন চমৎকার। হাফিজ চাচা ছিলেন সবার বড়। উনার একটা উপদেশ পুরো সপ্তাহের পাথেয় হয়ে থাকতো। খোকন চাচা কোরআন সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা করতেন। ফয়সল ভাই চা বানাতে ওস্তাদ। উনার হাতের আদা দিয়ে লাল চা না খেলে আড্ডা জমতো না। আর সাংবাদিক লোকমান ভাই? উনি আসলেই আড্ডাকে নিউজ বানিয়ে দিতেন। কোনো একটা ঘটনা নিয়ে বিশ্লেষণ, কারণ, ফলাফল—সব বের করে আনতেন। মোক্তার আর আরও অনেকে—নাম মনে না থাকলেও মুখগুলো আজও চোখে ভাসে। বার্সেলোনায় মাঝে মধ্যে যাদের মধ্যে আড্ডা জমতো তাদের অন্যতম ছিলেন আলাউদ্দিন ভাই, কবির ভাই, শাহিন ভাই, মঞ্জুর ভাই, হাফিজ ভাই, ইসলাম ভাই, নাজমুল ভাই, আলী হোসেন ভাই, হিফজুর ভাই, রাজু ভাই, নজরুল ভাই, আখতার জামান ভাই, খোকন চাচা, ফয়সল ভাই, সাংবাদিক লোকমান ভাই ও সৌরভ প্রমুখ।
একটি রাজনৈতিক স্মৃতি ও সাংবাদিকতা :
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানী ঢাকার বনানী থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি চালক আনসার আলীসহ ‘গুম’ হন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানী নগর এর সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী। ইলিয়াস আলীর সন্ধান দাবী করে বার্সেলোনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশের সংবাদটি ছবি সহ আমি কভারেজ করেছি। আমার প্রেরিত সংবাদ ছবি সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় গুরুত্ব সহকারে ছাপা হয়েছিল। প্রবাসেও দেশের রাজনীতি বেঁচে থাকে।
বিদায় ও শেষ কথা :
বার্সেলোনায় দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বিদায়ের পালা। বার্সেলোনা থেকে রাতের ট্রেন। বার্সেলোনা সান্টস (Barcelona Sants) স্টেশন থেকে ফার্স্ট ক্লাস টিকিট কেটে উঠেছিলাম প্যারিসগামী ট্রেনে। রাতের বেলা রওয়ানা। কামরার জানালায় ভূমধ্যসাগরের অন্ধকার, আর দূরে পাহাড়ের ছায়া। মাসুক ভাই স্টেশনে দাঁড়িয়ে বিদায় জানালেন। বললেন, “ভাই, দেশের মানুষ আসলে আমরা গর্বিত হই। আবার আইসেন”। হাত নেড়ে বললেন, “প্যারিসে পৌঁছে খবর দিও।” প্রবাসের মাটিতে আপনজনের বিদায় — এই কষ্ট আর আনন্দ মিলেই তো ভ্রমণ। ট্রেনে সারারাত জেগে ছিলাম। কখনো বার্সেলোনার রঙ, কখনো প্যারিসের স্বপ্ন। সকালে গার দ্য অস্টারলিৎসে ভোরের আলো ফুটতেই ট্রেন থামলো। প্যারিসের গার দ্য অস্টারলিৎস স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নেমেই দেখি — আমার ছোট ভাই সুয়েব আহমদ দাঁড়িয়ে আছে। এক দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো। কোলাকুলি হ্যান্ড শেক। বিদেশের মাটিতে আপন রক্তের স্পর্শ। চোখ ভিজে গিয়েছিল সেদিন। সুয়েব আমাকে নিয়ে গেল প্যারিসের বাসায়। ক্লান্তি নিমিষেই উধাও। মনে হলো প্যারিসটা আপন হয়ে গেল। #
আগামী পর্বে :দিগন্ত ভ্রমণের স্মৃতি, পর্ব-০৩। ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলস: চকলেট, ওয়াফল ও রাজনীতির শহর

