প্রচ্ছদ

চলতি মাসেই করোনার ওষুধ উৎপাদন হবে বাংলাদেশে

  |  ২১:০৪, মে ০৬, ২০২০
www.adarshabarta.com

Manual3 Ad Code

মোঃ নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি, আদর্শবার্তা :

করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাসে পৃথিবী অসহায়। চোখের সামনে মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। আক্রান্ত হচ্ছে লাখ লাখ লোক। কেউ কিছু করতে পারছে না। নেই কোনও প্রতিকার। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দিনরাত পরিশ্রম ও গবেষণা করছেন ভাইরাসটির ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য। কিন্তু এখনও কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

Manual4 Ad Code

ঠিক এমন সময় বাংলাদেশকে সুখবর দিলো বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। বাংলাদেশের এই ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য বহুল আলোচিত ওষুধ ‘রেমডিসিভির’ উৎপাদন করবে বলে রয়টার্স ও নিউইয়র্ক টাইমসের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে খবর বেরিয়েছে। চলতি মাসেই উৎপাদন করা হবে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধটি।

Manual3 Ad Code

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কার্যকারিতা দেখিয়েছে রেমডিসিভির। এই ওষুধটি সেবনের পর অনেক রোগীরই অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও পুরোপরি সফলতা আসেনি। তথাপি ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে করোনায় সবচেয়ে নাকাল যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে রেমডিসিভির ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে। মূল উৎপাদনকারী গিলিয়াড ১৫ লাখ ডোজের প্রথম ব্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের রোগীদের জন্য দান করবে।

Manual2 Ad Code

এদিকে বেক্সিমকো’র চিফ অপারেটিং অফিসার রব্বুর রেজা জানিয়েছেন, চলতি মে মাসের মাঝামাখি বেক্সিমকো ওষুধটি বাজারজাত করার অনুমতি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এরপর থেকে সরকারের মাধ্যমে বিতরণের জন্য ওষুধটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করবে বেক্সিমকো। এই ওষুধ মানুষের শিরায় প্রয়োগ করতে হয়। প্রতি ডোজ ওষুধের দাম পড়বে ৫-৬ হাজার টাকা। আর গুরুতর অসুস্থ রোগীদের মোট ৫ তেকে ১১ ডোজ ওষুধ প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটি এখনও নিশ্চিত নয়।

রেমডিভিসির উৎপাদনে সরকারি ভর্তুতি দেবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ঠিক ততটুকুই ওষুধ উৎপাদন করবো, যতটুকু বাংলাদেশ সরকার চাইবে।’

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, বেক্সিমকো ডোজ প্রতি ওষুধের যে দাম নির্ধারণ করছে তাতে একজন রোগীর সুস্থ হতে ২৪ থেকে ৬৫ হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি খরচ হতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনও ওষুধটির দাম নিয়ে কোনও ঘোষণা দেয়নি।

Manual6 Ad Code

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ জাতিসংঘ স্বীকৃত স্বল্পোন্নত দেশগুলো এসব প্যাটেন্ট বা সত্ত্ব অগ্রাহ্য করতে পারবে। ফলে এসব দেশ সহনীয় দামে ওষুধটি উৎপাদন করতে পারবে।

মূলত রেমডিসিভির ওষুধটি প্রথমে ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসায় প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে তখন এটা খুব কাজে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউটস অব হেলথ এক পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছে, সাধারণ রোগীদের তুলনায় এই ওষুধ সেবনকারী রোগীদের হাসপাতালে থাকার পরিমাণ কমে যায় প্রায় ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ এই ওষুধে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। মৃত্যুর ঝুঁকিও কমে।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code