প্রচ্ছদ

এবার মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত

  |  ০৫:৫৮, মে ২৩, ২০২০
www.adarshabarta.com

আদর্শবার্তা ডেস্ক:

দেশজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবার ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিশাল ঈদগাহ ময়দান ও এলাকার বড় মাঠগুলোতে নামাজের জন্য সমবেত না হতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসলামি ফাউন্ডেশন। এমনকি জাতীয় ঈদগাহ ময়দানেও ঈদের নামাজ হবে না বলে জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে- মাস্ক পরে, বাসা বা বাড়ি থেকে ওজু করে, সামাজিক দূরত্ব মেনে, মসজিদের মেঝে জীবানুমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে এবং প্রয়োজনে ব্যক্তিগত জায়নামাজ ব্যবহার করে এবার নিজ এলাকার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। মুসল্লির অনুপাতে মসজিদগুলোতে কয়েক ধাপে জামাতের আয়োজন করার নির্দেশনাও দিয়েছে ইসলামি ফাউন্ডেশন।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামাত আদায় প্রসঙ্গে ১৪ মে বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্যও অনুরোধ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাতের আয়োজন হয় কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। করোনাভাইরাসের কারণে লাখ-লাখ মুসল্লি নিজেদের প্রিয় ঈদগাহে এবার নামাজ পড়তে পারবেন না। ঈদগাহের গ্র্যান্ড খতিব আল্লামা ফরীদউদ্দিন মাসঊদ বলেন, ‘করোনা মহামারির বিরুদ্ধে সারা মানবজাতি লড়াই করছে। আল্লাহর রহমতে এবারের ঈদে সারা মুসলিম জাহানের মানুষ এরথেকে মুক্তি পেতে দোয়া করবে। তবে, এবার আমাদের শোলাকিয়া ঈদগাহসহ দেশের অন্য ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়া যাবে না, নামাজ আদায় করতে হবে মসজিদে।’

অন্যদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, ঈদ জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বেছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, যে কোনও অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

নির্দেশনা মানা না হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এ নির্দেশনা সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। যাতে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।

এদিকে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে মেনে চলার আহবান জানিয়ে রাজধানীর লালবাগের জামিয়া কোরআনিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ইসলাম মানুষের কল্যাণের কথা বলে। মানুষের জীবনের ঝুঁকি হ্রাস করতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে। এ নির্দেশনা অনুসরণ করে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ মসজিদে আদায় করলে শরিয়তের কোনও বিধানের খেলাপ হবে না।

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, এমনিতেই আবহাওয়া খারাপ হলে ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদে নামাজ আদায় করা হয়। এ সময়ের আবহাওয়াও দুর্যোগপূর্ণ হওয়ার শঙ্কা আছে। ফলে করোনার কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ে কোনও সমস্যা নেই। তিনি সবাইকে নির্দেশনা অনুসরণ করার আহবান জানান।