প্রচ্ছদ

আজিমপুরে সমাহিত হ‌লেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

  |  ১০:১৮, মে ১৫, ২০২০
www.adarshabarta.com

আদর্শবার্তা ডেস্ক:

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে শায়িত হলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

তার ছেলে আনন্দ জামান জানান, আল মারকাজুল ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবীরা শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সিএমএইচ থেকে তার বাবার মৃতদেহ গ্রহণ করেন। পরে কোভিড-১৯ নীতিমালা অনুযায়ী সেখানেই গোসল-কাফনের ব্যবস্থা হয়।

“তারা সিএমএইচ থেকে বাবার কফিন নিয়ে যান আজিমপুর কবরস্থানে। সেখানে জানাজা শেষে সোয়া ১০টার পর বাবাকে সমাহিত করা হয়।”

দাফনের আগে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় বলে জানান আনন্দ।

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে মারা যান বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক, গবেষক আনিসুজ্জামান। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

এই অধ্যাপক হৃদরোগ, কিডনি ও ফুসফুসে জটিলতা, পারকিনসন্স ডিজিজ এবং প্রোস্টেটের সমস্যা ভুগছিলেন। শেষ দিকে তার রক্তে ইনফেকশন দেখা দিয়েছিল। মৃত্যুর পর নমুনা পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে।

বৃহস্পতিবার বিকালে তার মৃত্যুর খবরে নেমে আসে শোকের ছায়া। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অধ্যাপকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রের দুই সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদক পাওয়া আনিসুজ্জামান একাত্তরে বাংলাদেশের প্রথম সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন। বাহাত্তরে তিনি ছিলেন কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের সদস্য।

সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার আনিসুজ্জামানের হাত ধরেই এসেছে বাংলাদেশের সংবিধানের বাংলা সংস্করণ। যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবিতে সোচ্চার আনিসুজ্জামান ছিলেন ১৯৯১ সালে গঠিত গণআদালতে অভিযোগকারীদের একজন।

বাংলার অধ্যাপকের পরিচয় ছাপিয়ে সাহিত্য-গবেষণা, লেখালেখি, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সংকটকালে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের জন্য অনন্য চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অনেকের চোখে তিনি ছিলেন ‘আলোকবর্তিকা’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করেছেন আনিসুজ্জামান। আমৃত্যু তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি।

তার মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, “ড. আনিসুজ্জামান ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলাদেশে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে তিনি অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়ার দিনগুলোতে আনিসুজ্জামানকে পেয়েছিলেন শিক্ষক হিসেবে।

এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, “তার মত বিদগ্ধ ও জ্ঞানী মানুষের মৃত্যুতে দেশের এক অপূরণীয় ক্ষতি হল।”

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে আজিমপুরে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জানাজার সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু, আনিসুজ্জামানের জামাতা আজিমুল হক, ভাই আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজন আত্মীয় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের ধানমণ্ডি রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল আলমের নেতৃত্বে প্রয়াত এই মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বাবর আলী মীর এবং সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।