প্রচ্ছদ

ছোট যুদ্ধে ইসরাইল, দীর্ঘ যুদ্ধে জিতবে হামাস

  |  ০৬:৪৯, মে ১৭, ২০২১
www.adarshabarta.com

আদর্শবার্তা ডেস্ক :

হেস্তনেস্ত না হওয়া পর্যন্ত হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে ইজরায়েলি সেনা। গতসোমবার থেকে হামাস ইসরায়েলি সেনা পরস্পরকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমাবর্ষণচালিয়ে যাচ্ছে। তা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জসহ একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুদ্ধথামিয়ে শান্তি ফেরানোর বার্তা দিয়েছে সকলে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিননেতানিয়াহুর সাফ বক্তব্য, আমরা কোনও অপরাধ করিনি। যারা আমাদের আক্রমণ করেচলেছে, যাবতীয় অপরাধবোধের দায় তাদেরই। সপ্তাহব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ২০০ কাছাকাছিপ্রাণ গেলেও সিদ্ধান্তে অনড় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। গাজায় ইসরায়েলি সেনার হানায়শনিবারই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস এবং আল জাজিরার ১২ তলা ভবনগুঁড়িয়ে গিয়েছে।

তাতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও, নেতানিয়াহু বলেনঅভিযান চলবে। যত দিনপ্রয়োজন, তত দিন পর্যন্ত অভিযান চলবে। হামাসের মতো ইচ্ছাকৃত ভাবে সাধারণ নাগরিকদেরনিশানা করছি না আমরা। বরং নিরীহ নাগরিকদের এড়িয়ে সন্ত্রাসবাদীদের উপরই সরাসরিআঘাত হানছি। ইজ়রায়েল অধিকৃত গাজ়া ভূখণ্ড এবং জেরুসালেমের একাংশে হঠাৎই হামলাচালিয়েছিল হামাস। আকাশের ওপার থেকে ছুটে এসেছিল ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট। ইসরায়েলিসেনার মতে, অন্তত দেড়েক তো হবেই। বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে অধিকাংশরকেটের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা আটকানো গিয়েছে। পাল্টা জবাব দিতেশুরু করেছে  ইসরায়েলও।  সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে সবথেকে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়েযাচ্ছে দেশটি। ২০১৪ সালের পর গাজার উগ্রপন্থীদের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়েছেইসরায়েলের। তেল আভিভে আল আকসা মসজিদে ইসরায়েলি পুলিশ ফিলিস্তিনিদেরখণ্ডযুদ্ধের পর জেরুজালেম লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায় হামাস। প্রত্যাঘাত করে ইসরায়েলিসেনা। এখনও পর্যন্ত প্রায় দু মানুষ মারা গিয়েছে গাজায়। আহত প্রায় ৯০০। এদিকেহামাসের মুখপাত্রের দাবি, ইসরায়েলের হামলা সত্ত্বেও তাদের মনোবল ভাঙেনি। এখনওলড়াইয়ের জন্য তৈরি তারা।    ২০০৬ সালের পর থেকে ফিলিস্তিনি অংশ দুটি প্রধান দলেবিভক্ত হয়ে পড়েছে: ফাতাহ এবং হামাস। এর মধ্যে ফাতাহ বর্তমানে সবচেয়ে বড় দল। এরফলে দেশের কেন্দ্রীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক শাসিত মূল ভূমি ব্যবহারিক অর্থে দুই ভাগেভাগ হয়ে গেছে: পশ্চিম তীরে ফাতাহ এবং গাজা উপত্যকায় হামাস প্রভাব বিস্তার করেছে। এতেসমস্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ ইসরায়েলসহ অনেকগুলো দেশই হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠনমনে করে। তার মানে, ২০০৬ এর নির্বাচনে হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলেও তাদেরকেকোন আন্তর্জাতিক সমঝোতা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

 

২০০৮ এর শেষ নাগাদএকটি চিরস্থায়ী শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারী দলগুলোবলেছে, টি প্রধান বিষয় আছে যেগুলোর সমাধান না হলে শান্তি আসবে না। এগুলো হচ্ছে: জেরুসালেম, শরণার্থী, আবাসন, নিরাপত্তা, সীমান্ত এবং পানি এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেকআলোচনা হয়েছে। ইসরায়েল   ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন রকমমতামতের সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সংঘাতটা শুধু ইসরায়েল ফিলিস্তিনের মধ্যে  নয়, উভয়ের অভ্যন্তরেও অনেক অন্তর্দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। এই সংঘাতের সবচেয়ে বীভৎস দিক হচ্ছেদীর্ঘমেয়াদী সহিংসতা। সহিংসতা দ্রুত অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়েছে আরব বাসিন্দারারাস্তায় এবং তাদের বাড়িতে ইহুদিদের উপর হামলা চালিয়েছে , উপাসনালয়গুলি জ্বালিয়েদিয়েছে  এবং বিশাল অঞ্চলে ভাংচুর করেছে। ইহুদি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলি সারা দেশ জুড়েলোকদের বাইরে গিয়ে যেকোনো আরববাসীর মুখোমুখি হয়ে লড়াই করার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে।যদিও ইহুদিদের রক্ষা করার নামে তারা আদপে আরব বিরোধী সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছে।   করোনভাইরাস সংকট থেকে অর্থনৈতিক চাপ সহ, ইসরায়েল  এবং ফিলিস্তিন উভয় অঞ্চলেইচলমান রাজনৈতিক কলহ অস্থিতিশীলতা দাবানলের কাজ করেছে।  ইজাদাদিন আলকাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবুউবাইদা বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জানান , ‘এই সংঘর্ষ আসলেআমাদের জনগণের সংহতির  প্রতি আঘাত  ”  হামাস যে গতিতে এগোচ্ছে তাতে অনেকেইমনে করছেন তাদের পাল্লা ভারী। কারণ লেবানন , জর্ডনের মতো দেশগুলির সমর্থন তাদেরদিকে আছে।  এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সহিংসতার বিরুদ্ধে আরো কঠিনভাবে কাজকরতে হবে এবং অবশ্যই একটি শান্তিপূর্ণ আলোচনার প্রয়োজন বলে আছে বলে মনে করছেনরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, তবেই এই হিংসা, রক্তপাত , প্রাণহানির বিরাম ঘটতে পারে বলে মনেকরছেন তারা।

সূত্র : মানবজমিন