প্রচ্ছদ

ফাহিমের খুনি চিহ্নিত, যেকোনো সময় গ্রেফতার

  |  ০৬:২৯, জুলাই ১৭, ২০২০
www.adarshabarta.com

Manual8 Ad Code

মোঃ নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি :

Manual1 Ad Code

শেয়ার রাইডিং অ্যাপ পাঠাও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ’র হত্যাকারীকে এখনো ধরতে না পারলেও তাদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ। তাকে যে কোনো সময় গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে বলেও পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আভাস দিয়েছে, বড় ধরনের কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনের জেরে ফাহিম সালেহকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং হত্যাকারী গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাবে না।

গত ১৪ জুলাই নিউইয়র্কের নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাও’য়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একদিন পর জানা যায় ফাহিমের মৃতদেহকে বুকের মাঝ বরাবর কেটে খণ্ডিত করা হয়েছে। বেরিয়ে এসেছে যে, লাশ ব্যাগে ভরার উদ্দেশেই কাটা হয়েছিল, তবে পরে কেউ চলে আসায় তা আর সম্ভব হয়নি।

ফাহিমের পেশাদার ঘাতক সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে লিফ্টে ফাহিমের সাথেই সপ্তম তলায় ওঠে।

Manual7 Ad Code

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, লোকটি কালো পোশাক পরিহিত ছিল। মাথায় টুপি, মাস্ক-সবকিছু ছিল কালো। হাতে ছিল বড় একটি স্যুটকেস। পুলিশের ধারণা, অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ফাহিমকে হয়তো মাথায় আঘাত করে দুর্বল করা হয় এরপরই বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে গলা কাটা হয়। পাশাপাশি দু’হাত ও দু’পা কাটা হয়। বুকের মধ্যেখানেও করাত চালিয়ে দ্বিখণ্ডিত করা হয়।

এরপর খণ্ড খণ্ড অংশ আলাদা পলিথিন ব্যাগে ভরা হয়। ফ্লোরের রক্ত মুছে ফেলা হয় কৌশলে। করাতেও ছিল না রক্তের দাগ। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, ফাহিমকে হত্যার পর হয়তো টুকরো টুকরো লাশ ঐ স্যুটকেসে ভরে কোথাও নেয়া হতো; যাতে ফাহিম নিখোঁজ রহস্য উদঘাটনেও অনেক সময় পেরিয়ে যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা এবং এমন হত্যাকাণ্ডের ওপর গভীর পর্যবেক্ষণকারীরা আরও মনে করছেন, খণ্ড খণ্ড লাশ স্যুটকেসে ভরার আগেই হয়তো ওই এপার্টমেন্টে আসতে আগ্রহী কেউ নিচে থেকে কলিং বেল টিপেছিলেন। সে শব্দেই ঘাতক সবকিছু ফেলে পালিয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকেলে ১০ তলার ওই ভবনের সপ্তম তলায় নিজ এপার্টমেন্টে ফেরেন ফাহিম। এরপর সারারাত এবং পরদিন মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত চেষ্টা করেও ফাহিমকে ফোনে না পেয়ে তার খালাতো বোন ছুটে আসেন ওই ভবনে। এরপর এপার্টমেন্টে গিয়ে আঁতকে উঠেন ফাহিমের খণ্ড-বিখণ্ড লাশ পলিথিন ব্যাগে দেখে। সাথে সাথে ফোন করেন ফাহিমের ছোটবোন রিফ-সালেহকে। দ্রুত চলে আসেন তিনি। এরইমধ্যে ৯১১ এ কল করা হয়।

Manual7 Ad Code

এছাড়া লিফটের একটি নজরদারি ক্যামেরায় ফাহিমের গতিবিধির কিছু ফুটেজ পাওয়া গেছে। তাতে সবশেষ সোমবার তাকে লিফটের ভেতর দেখা গেছে। স্যুট, গ্লভস, হ্যাট এবং মাস্ক পরিহিত একটি লোককে ওই সময় তাকে অনুসরণ করতে দেখা যাচ্ছে।

পুলিশের ধারণা, ফাহিম লিফট থেকে বের হওয়ার পরপরই তাকে গুলি করা হয়েছে অথবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। অপরাধীর কাছে একটি স্যুটকেসও ছিল। সে খুবই পেশাদার খুনি বলেই ধারণা করছে পুলিশ।

ফাহিম যে ভবনে থাকতেন সেটি খুব সম্প্রতি নির্মিত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন। ভবনের পর্দা নামানো ছিল।

প্রায় বিশ কোটি টাকা দিয়ে গত বছর নিউইয়র্কে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টটি কিনেছিলেন ৩৩ বছর বয়সী ফাহিম। পাঠাওয়ের মতো তিনি নাইজেরিয়ায় আরো একটি মোটর বাইক শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান চালু করেছিলেন। সে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদে ছিলেন ফাহিম সালেহ।

Manual3 Ad Code

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code