প্রচ্ছদ

৩০ বছর পর শিরোপা জয় লিভারপুলের

  |  ১০:৫৫, জুন ২৬, ২০২০
www.adarshabarta.com

আদর্শবার্তা ডেস্ক:

একদিকে করোনাভাইরাসের ভয়, অন্যদিকে ৩০ বছর পর শিরোপা জয়ের আনন্দ- লিভারপুলের মানুষ বেছে নিলো দ্বিতীয়টিকেই। করোনাভীতি পাশ কাটিয়ে লিভারপুল ফুটবল ক্লাবের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয়ের আনন্দে বাঁধভাঙা উদযাপন করেছে লিভারপুলের মানুষ।

 

এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি ইংল্যান্ড তথা যুক্তরাজ্যের করোনা পরিস্থিতি। তবে অবস্থা ক্রমেই উন্নতির দিকে। আগামী মাসের শুরু থেকে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণাও দেয়া হয়েছে এরই মধ্যে। তবে সেটি ৪ জুলাইয়ের পর থেকে।

 

কিন্তু সেদিন পর্যন্ত কি শিরোপা আনন্দ আটকে রাখা যাবে? তা যায়নি মোটেও। বৃহস্পতিবার রাতে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে খেলেছে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু উৎসবের রঙে লাল হয়েছে প্রায় দুইশ মাইল দূরের লিভারপুলের অ্যানফিল্ড স্টেডিয়াম।

 

চেলসি-ম্যান সিটি ম্যাচে স্বাগতিক দলের জয়ে নিশ্চিত হয়েছে লিভারপুলের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। তখন থেকেই মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছে অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামের সামনে হাজারো সমর্থকের শিরোপা উৎসব। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমের পর এবারই প্রথম লিগ শিরোপা জিতল লিভারপুল। তাই আনন্দের মাত্রাটাও ছিল অনেক বেশি।

 

শুধু অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামে বাইরে নয়, হোটেল, পানশালা বা রেস্টুরেন্ট- যে যেখানে খেলা দেখেছে সেটিই রূপ নিয়েছে উৎসবের কেন্দ্র হিসেবে। ত্রিশ বছর ধরে জমানো স্বপ্নের এমন পরিণতির পর করোনাভীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লোকে লোকারণ্য হয়ে উৎসব হবে- এমনটা যেন অনুমেয়ই ছিল সকলের কাছে।

 

সেই আবেগে ভেসেছেন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও। মাঠে চেলসি-সিটি খেললেও, সজাগ দৃষ্টি রেখেছিলেন ক্লপ নিজেও, ‘সিটির ম্যাচটা সত্যিই খুব উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। আমি এই ম্যাচ দেখতে চাইনি, জড়াতে চাইনি। কিন্তু তা না করেও উপায় ছিল না। আমার আসলে অনুভূতি প্রকাশ করার মতো ভাষা জানা নেই। এটা যেকোন কিছুর চেয়ে অনেক বড় আনন্দ। এই ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারা অবিশ্বাস্য।’

 

শুধু ক্লপ নয়, এমন আবেগে ভেসেছেন লিভারপুল বর্তমান প্রজন্ম থেকে শুরু করে কয়েক প্রজন্ম আগের সমর্থকরাও। ৭২ বছর বয়সী জেফ গার্নারই যেমন। তিনি লিভারপুলের সমর্থক সেই ১৯৬১ সাল থেকে। তার অনুভূতি, ‘আমরা খেলতে গিয়েছি এবং লিগ জিতে নিয়েছি। আমি মনে করেছিলাম আরও পাঁচ বছর আগেই হয়তো শিরোপা জিতব আমরা।’

 

লিভারপুলের হয়ে তিনটি লিগ শিরোপা জেতা কোচ কেনি ডালগ্লিশ তার অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘তখন যদি কেউ বলতো যে, পরের শিরোপা জিততে আপনাদের ৩০ বছর লাগবে! তাহলে নিশ্চিতভাবে তাকে জেলে পুরে দেয়া হতো। তবে মাঝেমধ্যে এমন হয়। ক্লপ আসার পর গত দুই বছরে সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে। সে দারুণ কোচ এবং লিভারপুলে সাফল্যের পেছনে তার অবদান অনেক।’

 

দলের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ক্লাবের অন্যতম মালিক জন হেনরিও। ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপের প্রধান হেনরি টুইটারে লিখেছেন, ‘অসাধারণ অর্জন। এমন একটা মৌসুমের জন্য কতদিনের অপেক্ষা। লিগ শিরোপা জেতার মাধ্যমে দারুণ এক বছরের যথাযথ পরিণতি ঘটল। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, সুপার কাপ এবং ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের পর এখন লিগ চ্যাম্পিয়ন। খেলাটিকে যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি সুন্দর করে তুলেছে লিভারপুল।’

 

ইংলিশ ক্লাবটির এমন সাফল্যে সবার উদ্ভাসিত হওয়াই স্বাভাবিক। কেননা সবশেষ ১৯৯০ সালে যখন তারা লিগ জিতেছিল, তখনও শুরু হয়নি বর্তমান ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, ছিল না কোন স্কাই টিভি, ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মার্গারেট থ্যাচার, মাত্র ৪৭ পেন্সে পাওয়া যেত পেট্রোল, দুধের দাম ছিল ৩০ পেন্স আর গড়পড়তা ৫৫ হাজার পাউন্ডে কেনা যেত পুরো একটি বাড়ি।

 

সেখান থেকে ত্রিশ বছর পেরিয়ে দুইটি ইউরোপিয়ান শিরোপা, তিনটি এফএ কাপ, চারটি লিগ কাপ এবং উয়েফা কাপ জিতলেও কখনও লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়নি লিভারপুল। মাঝে চারবার রানার্সআপ হয়ে অবশেষে এবার তারা জিতল অধরা লিগ শিরোপা।